শিরোনাম
◈ পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘ভারতীয় প্রক্সি’ গোষ্ঠীর ৩৪ সদস্য নিহত ◈ রাজনীতি করার জন্য একটু ‘স্পেস’ চায় আওয়ামী লীগ! ◈ ছয় আসন, বড় লক্ষ্য: ছাত্রনেতৃত্বাধীন এনসিপির সামনে এখন কী? তৃতীয় শক্তি কি গড়ে উঠতে পারবে? ◈ অভিযুক্ত সিয়াম গ্রেফতার, ছুরি ও জামা উদ্ধার: স্কুলছাত্রী হত্যা ◈ একুশে পদক প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ নতুন দায়িত্ব পেলেন মির্জা আব্বাস ◈ উত্তর-পশ্চিমে পরিবর্তনের ইঙ্গিত: অবহেলিত প্রান্তে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ◈ বিএনপি সরকারের পদক্ষেপ ভালো, তবে সমালোচনাও আছে ◈ পবিত্র রমজান মাসে একদিনে ওমরাহ পালনকারীর সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড ◈ কষ্টের জয়ে চ‌্যা‌ম্পিয়ন্স লি‌গের শেষ ষোলোয় রিয়াল মা‌দ্রিদ ও পিএসজি

প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫০ দুপুর
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিএন‌পির ছয় নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়ায় সৃ‌ষ্টি হ‌লো ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা

এল আর বাদল : জাতীয় নির্বাচনের পরই আলোচনায় আসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্তর্বতী সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল।

তবে ঢাকার দুটিসহ দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে বিএনপির ছয়জন নেতাকে নতুন করে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় তৈরি হয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা। মঙ্গলবার ওই ছয়জন বিএনপি নেতা সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ------ বি‌বি‌সি বাংলা

২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারে পতনের পর দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর, পৌরসভা-উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিদের অনেকে আত্মগোপনে চলে যান। কেউ কেউ আবার গ্রেফতার হন।

জনপ্রতিনিধিরা আত্মগোপনে কিংবা পরিষদে না যাওয়ায় নাগরিক সেবা ব্যাহতের কারণ দেখিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কয়েক দিনের ব্যবধানে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা- উপজেলা পরিষদের মেয়র ও চেয়ারম্যানদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

তখন জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবিও উঠেছিল। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর দিক থেকে জাতীয় নির্বাচনের দাবি জোরালো হওয়ায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের আগেই চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকার ইসিকে চিঠি দেয়, যেখানে ঢাকা উত্তর - দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়।

এমন অবস্থায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো কবে হবে, কিংবা শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে কি-না সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

এই প্রশ্নের উত্তর যে আসলে নির্বাচন কমিশনের কাছেও নেই, তা নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলামের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে।

বিবিসি বাংলাকে ইসি মি. ইসলাম বলেছেন, "আইন-কানুনে কী আছে, সেগুলো পরিবর্তনের দরকার হতে পারে, সামনে আবার বৃষ্টি-বাদলও হতে পারে। এমন অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের সংকট আছে"।
স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র প্রশাসক দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, বরং কাউন্সিলর পদ শূন্য থাকায় নির্বাচনই একমাত্র সমাধান।

মেয়র পদে প্রশাসক, অন্য পদে কী হবে? 

২০২৪ সালের পাঁচই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে।

এর মধ্যে ১২টি সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

গত ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। গত রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সিলেট ও খুলনায় নতুন করে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।

যাদেরকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে তাদের সবাই বিএনপির নেতা। কেউ কেউ আবার ওই সিটি নির্বাচনে পরাজিতও হয়েছিলেন অতীতে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম। অন্যদিকে মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হয়েছেন।

এছাড়া খুলনা সিটি কর্পোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেট সিটি করপোরেশে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুরে মো. শওকত হোসেন সরকার সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

সরকারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী করপোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা তাদের সিটি কর্পোরেশনগুলোতে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষিণের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেছেন, "প্রধানমন্ত্রী আস্থা রেখেছেন। আমরা তার আস্থার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করবো। দলের আস্থা অর্জন করেছি কাজের মধ্যে দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে তারপর আমরা নির্বাচনে যাবো"।

স্থানীয় সরকার বিশ্লেষকরা বলছেন, মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদ নিয়ে গঠিত হয় সিটি করপোরেশন। শুধু মেয়র পদে প্রশাসক বসালে নাগরিক সুবিধা কতখানি নিশ্চিত হবে সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আবু আলম শহীদ খান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, সিটি কর্পোরেশনগুলোর মেয়র পদের সাথে সাথে কাউন্সিলর পদও শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। সুতারং কাউন্সিলর ছাড়া তো নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব না।

তিন সিটিতে নির্বাচন করতে মন্ত্রণালয়ের চিঠি

গত মঙ্গলবার ছয়টি সিটির নতুন প্রশাসকদের দায়িত্ব দেওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "সিটি কর্পোরেশনগুলো মধ্যে কতগুলোর মেয়াদ আছে, কতগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে"।

আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের দোসরা জুন। সে হিসাবে গত বছরের পহেলা জুন এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে।

আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের তেসরা জুন। এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের দোসরা জুন।

আর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২২শে ফেব্রুয়ারি।

গত পহেলা ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে আলাদা দুইটি চিঠি পাঠানো হয়। একটি চিঠিতে বলা হয়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের জুনে। এ অবস্থায় ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে অনুরোধ জানানো হয়।

একই দিনে অর্থাৎ চলতি মাসের পহেলা ফেব্রুয়ারি আলাদা আরেকটি চিঠিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় জানায় যে ২২শে ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হচ্ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে অনুরোধও জানানো হয় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এই তিনটি চিঠির পর নির্বাচন কমিশন কী করবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল কমিশনার আনোয়ারুল ইসলামের কাছে।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "আমরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো। কিছু আইন- কানুনের বিষয় আছে সেগুলোর সমাধান করতে হবে। নির্বাচন করতে প্রতীকের একটা বিষয় থাকতে পারে। বিভিন্ন কমিশনের রিপোর্ট আছে। সব কিছু মিলিয়ে কাজগুলো করতে হবে।

এদিকে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এটাও বলেছেন যে দলীয় প্রতীকে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় সংসদ থেকে নির্ধারিত হবে।

নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে বাকি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ অন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের আয়োজন করা হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।

রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক নিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "রাজনৈতিক প্রশাসকরা জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে সেবা নিশ্চিত করতে পারেন। সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে তারা জনদূর্ভোগ লাঘবে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেই তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব সিটি করপোরেশনের মধ্যে যেটির মেয়াদ আগে শেষ হবে, সেখানে আগে নির্বাচন হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়