শিরোনাম
◈ ইরান যুদ্ধ থেকে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প: আলজাজিরার বিশ্লেষণ ◈ আওয়ামী লী‌গের কার্যক্রমে নি‌ষেধাজ্ঞা আপাতত তুলে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা সরকা‌রের নেই : মির্জা ফখরুল ◈ এবার ইসরাইলের প্রতি সহায়তা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি ◈ ঈদের ছুটিতে পর্যটনে প্রাণচাঞ্চল্য ◈ শর্ত সাপেক্ষে পা‌কিস্তান সুপার লি‌গে খেলার এনওসি পেলেন মুস্তাফিজ-রিশাদরা ◈ শেষ দিনে ফাঁকা স্টেশন, অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ছেড়েছে ট্রেন ◈ ২৭ মার্চ গুয়াতেমালার বিপক্ষে শেষ প্রস্তু‌তি ম‌্যাচ খেল‌বে আর্জেন্টিনা ◈ শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরসহ ১২৪ জনের দোষ পায়নি পুলিশ ◈ আজ সৌদিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর ◈ শুধু ট্রাম্পই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেন: জাপানের প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০২:৪৫ দুপুর
আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মুখ লুকিয়ে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা বাধ্য হয়েছেন ‘হ্যাঁ’—এর পক্ষে কথা বলতে: জামায়াত আমির (ভিডিও)

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘একসময় মুখ লুকিয়ে যাঁরা ছিলেন, কোনো কথা বলতেন না, এখন তাঁরা বাধ্য হয়েছেন ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে কথা বলতে। কিন্তু আমরা চাই, মুখের কথাই যেন তাঁদের বুকের কথা হয়। ‘হ্যাঁ’–এর বিপক্ষে যাঁরা অবস্থান নেবেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ ধরে নেবে; তাঁরা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান। আবার পরিবারকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন বাংলাদেশে চালু করতে চান।’

আজ সোমবার কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন। এর আগে দুপুর পৌনে ১২টায় তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি মহেশখালীতে অবতরণ করে। জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে দলের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ এবং ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বক্তব্য শুরু করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না।...আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সবার বিজয় হবে। আমিও তার থেকে বাদ পড়ব না। আর দল, পরিবার, গোষ্ঠীর বিজয় হলে—তারপর জাতির ওপর তাণ্ডব চালানো হবে। ধিক্কার জানাই ওই বিজয়কে। ওই বিজয় আমাদের প্রয়োজন নেই।’

যুবসমাজ বেকার ভাতা চায় না উল্লেখ করে জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘যুবককেরা তো দাবি করে নাই—আমাদের বেকার ভাতা দাও। তারা বলেছে, আমাদের হাতে কাজ দাও। আমরা আমাদের দেশ, জাতিকে গড়তে চাই। এই জন্য যুব সমাজের হাতে আমরা অপমানজনক বেকার ভাতা তুলে দেব না। আমরা সম্মানের কাজ তুলে দেব। সেই কাজ তুলে দেওয়ার একটা পটেনশিয়াল জায়গা হচ্ছে মহেশখালী-কুতুবদিয়া। এখানে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর কেন্দ্র করে, আমরা সিঙ্গাপুর কিংবা হংকংয়ের চেয়েও ভালো জায়গায় যেতে পারব।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি, ব্যাংক ডাকাত—এই নেতৃত্ব দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ হবে না। যুবকদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়া যাবে না। যাদের চরিত্রবল আছে, যাদের মধ্যে সততা আছে, দেশপ্রেম আছে, যারা মানুষের সঙ্গে লেগে থাকে সুখে-দুঃখে, যারা বসন্তের কোকিল নয়—বাংলাদেশ গড়া হবে তাদের দিয়ে। এই বাংলাদেশ আর হামাগুড়ি দিয়ে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সামনে যাবে—ওটা আমরা চাই না।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘বাংলাদেশের যে পরিমাণ টাকা লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে সেটা ২৮ লাখ কোটি টাকা। বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। এটা জনগণের টাকা। এই টাকা চোররা, ডাকাতেরা, লুণ্ঠনকারীরা চুরি করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি—ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব এবং সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। তারপর ইনসাফের ভিত্তিতে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে। আর কোনো বেইনসাফি এখানে হবে না, হতে দেওয়া হবে না।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের যে এলাকা যতটা বঞ্চিত, পিছিয়ে পড়া—সেই এলাকাকে টেনে তোলা হবে সবার আগে। এই মহেশখালীকে একটি স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তখনই যুবকদের কর্মসংস্থান হবে। বেকার ভাতার চিন্তা করা লাগবে না। কাজ করবে যুবক-যুবতীরা। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কাজ করবে। দল-ধর্ম কিছুই দেখা হবে না। দেখা হবে তার যোগ্যতা আর তার দেশপ্রেম।’

জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।  

চট্টগ্রামে নির্বাচনী সফর উপলক্ষে আজ পাঁচটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের। মহেশখালীর পর তিনি কক্সবাজার শহরে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর লোহাগাড়ার পদুয়া, সীতাকুণ্ড হাইস্কুল মাঠ এবং সবশেষ চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল ও কলেজ মাঠে জনসভায় অংশ নেবেন। জনসভাতে ১১–দলীয় জোটের সব শরিক দলের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত থাকবেন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়