ডেস্ক রিপোর্ট : মানবতার সেবায় নিয়োজিত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে এখনো নেতৃত্ব সংকট কাটেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে জানা যায়, বিগত ১৬ বছর এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিতর্কিতভাবে নিয়োগ ও পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারাই এখনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান আজিজুল হক শুরুতে নিজেকে এনসিপি-সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিলেও পরে জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিএনপি-সমর্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও তিনি দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকতে পারেননি। আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তাদের অবৈধ পদোন্নতি ও বিএনপি-সমর্থিত কর্মকর্তাদের অযৌক্তিক বদলির অভিযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদের মুখে ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি পদত্যাগ করেন।
বর্তমানে এখনো রেড ক্রিসেন্টে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আজিজুল হক বিএনপি-সমর্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেন। এর মধ্যে বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক ভিপি, সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সিনিয়র পরিচালক ইমাম জাফর সিকদার (জাফর ইমাম) অন্যতম। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে অবসরের মাত্র তিন মাস আগে তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়, যেখানে তার পদমর্যাদার কোনো পদ নেই বলে অভিযোগ ওঠে।
এদিকে আওয়ামী লীগপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন কর্মকর্তা—পরিচালক আখতার, মইনুল হোসেন ও আরিফা আক্তারসহ আরও কয়েকজনকে অবসরের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আওয়ামী-সমর্থিত আরও কয়েকজন কর্মকর্তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ বাড়ানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি-সমর্থিত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যেমন আব্দুর রহিম ও সুমন মিয়াকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। এসব বদলির প্রতিবাদে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ও ট্রেজারারসহ পাঁচজন পদত্যাগ করেছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও অবগত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এসব ঘটনায় রেড ক্রিসেন্ট কার্যালয়ে অস্থিরতা তৈরি হলে চেয়ারম্যান আজিজুল হক পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের আগে তিনি প্রতিষ্ঠানের বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিজের সমর্থিত একজনকে উপমহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইমাম জাফর সিকদারকে তারা একজন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা হিসেবে দেখেন। তার অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজে লাগানো যেত বলে মত দেন অনেকে।
এদিকে বিএনপি সরকারের তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত চেয়ারম্যান বা ম্যানেজিং বোর্ড পুনর্গঠন না হওয়ায় জাতীয় সদর দপ্তরসহ ৬৪ জেলার রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটে হতাশা বিরাজ করছে। বর্তমানে দায়িত্ব পালনকারী মহাসচিবকে নিয়োগ দিয়েছিলেন ইউনুস সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম। তার দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে।
জাতীয় জরুরি প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে গতি আনতে দ্রুত অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে ম্যানেজিং বোর্ড পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র : সময়ের আলো, জাগোনিউজ