শিরোনাম
◈ করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর, জারি ৪ নির্দেশনা ◈ অসহায় মানুষের সহায়তার জন্য ৮ কোটি টাকা বিতরণে খরচ ৫৩ কোটি! ◈ জনগণের আস্থা অটুট রেখেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান ◈ প্রথমবার আয়কর রিটার্নে মাত্র ১ হাজার টাকা, নতুন করদাতাদের জন্য এনবিআরের বিশেষ সুবিধা ◈ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিন সারোয়ারকে প্রত্যাহার ◈ আনিস আলমগীর, সোমা ইসলাম ও পিয়াসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি ◈ সরকারি ব্যানার-ফেস্টুনের নতুন নির্দেশনা: প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিষিদ্ধ, প্রাধান্য পাবে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ◈ চীন থেকে বৈধ পথে টাকা পাঠাতে জটিলতা, বাধ্য হয়ে হুন্ডিতে ঝুঁকছেন বাংলাদেশিরা ◈ ‌ ১২২ সরকারি প্রতিষ্ঠান ভয়ঙ্কর আর্থিক ঝুঁকিতে, মোট দায় ৮.৩৩ লাখ কোটি টাকা ◈ মেক্সিকো সিটিতে পা রাখতেই আক্রোশের মুখে ইংল‌্যান্ড দল

প্রকাশিত : ১৮ মে, ২০২৬, ০৭:০৮ সকাল
আপডেট : ০৩ জুলাই, ২০২৬, ০৫:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

গোপালভোগ নাকি গোবিন্দভোগ? বাজারে আম চিনবেন যেভাবে

গরম পড়তে না পড়তেই ফলের দোকানগুলো ভরে উঠছে আমের গন্ধে। ফলের দোকানের সামনে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে হলুদ-সবুজ আমে ভরা ঝুড়ি। আর মৌসুমের শুরুতেই সবচেয়ে বেশি শোনা যায় যে দুই নাম, সেগুলো হলো—গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ।

নাম কাছাকাছি, বাজারে আসার সময়ও প্রায় এক। তাই অনেকেই বাজারে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেন কোনটা কোন আম। তবে একটু খেয়াল করলে এই দুই আম আলাদা করে চেনা যায় বেশ সহজেই।

কোন আম দেখতে কেমন

ঢাকার মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারে দীর্ঘদিন ধরে আম বিক্রি করছেন মো. আবুল কাশেম। ক্রেতাদের এমন প্রশ্ন তাঁর কাছে নতুন নয়।

হালকা হেসে আবুল কাশেম বললেন, ‘ভাই, একটু ভালো কইরা দেখলেই বুঝবেন। গোবিন্দভোগটা সাধারণত ছোট আর গোলগোল ধরনের। আর গোপালভোগ একটু বড়, লম্বাটে।’

অর্থাৎ ছোট ও গোল আকৃতির আমটি গোবিন্দভোগ এবং তুলনামূলক বড় ও লম্বাটে (ডিমের মতো) আমটি গোপালভোগ। বাজারে পাশাপাশি বা একসঙ্গে মিশিয়ে রাখলেও এই পার্থক্য পরিষ্কারভাবেই চোখে পড়ে।

রঙে কী পার্থক্য

মোহাম্মদপুর টাউনহলের আরেক ব্যবসায়ী মো. আবদুল মান্নান বললেন, ‘রঙে খুব বেশি ফারাক নাই, কিন্তু খেয়াল করলে ধরা যায়। গোবিন্দভোগ পাকলে একটু সোনালি হলুদ হয়। গোপালভোগে আবার হলুদের সঙ্গে সবুজ ভাবটা বেশি থাকে।’

তবে শুধু রং দেখে সব সময় ঠিকভাবে আম চেনা যায় না। গাছের ধরন, আবহাওয়া আর কতটা পেকেছে—এসবের ওপরও আমের রঙ বদলে যেতে পারে।

ঘ্রাণ গড়ে দেয় পার্থক্য

আম চেনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় ঘ্রাণ। মো. আবুল কাশেম বললেন, ‘গোবিন্দভোগ হাতে নিলেই গন্ধ পাইবেন। দূর থেকেও গন্ধ আসে।’

আসলেই গোবিন্দভোগের আলাদা একরকম সুগন্ধ আছে। এই ঘ্রাণই একে অন্য অনেক ‘আগাম আম’ থেকে আলাদা করে দেয়। গোপালভোগেও মিষ্টি গন্ধ থাকে, তবে তা তুলনামূলকভাবে কম তীব্র।

স্বাদে কার কী বিশেষত্ব

খাওয়ার সময় পার্থক্যটা আরও পরিষ্কার বোঝা যায়।

গোপালভোগ খুব মিষ্টি ও রসালো। অনেকের কাছে এটি গরমের শুরুতে ‘খাঁটি মিষ্টি আম’-এর অনুভূতি দেয়।

অন্যদিকে গোবিন্দভোগের স্বাদে মিষ্টির পাশাপাশি থাকে আলাদা এক সুগন্ধি আবেশ।

আবদুল মান্নান বললেন, ‘গোবিন্দভোগের স্বাদ আগে নাকে লাগে, পরে মুখে। আর গোপালভোগের মিষ্টিটা খুব কড়া।’

মুখে কেমন লাগে

দুই আমই নরম ও রসালো। তবে খাওয়ার অনুভূতিতে কিছু পার্থক্য আছে।

গোপালভোগের শাঁস তুলনামূলক ঘন ও ভরাট ধরনের। অন্যদিকে গোবিন্দভোগ বেশি মোলায়েম, প্রায় আঁশহীন।

এই কারণেই অনেক আমপ্রেমীর কাছে গোবিন্দভোগ খেতে একটু বেশি নরম মনে হয়।

কখন বাজারে আসে

প্রথম আলোতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গোবিন্দভোগ সাধারণত মে মাসের শুরু থেকেই বাজারে দেখা যায়। অন্যদিকে গোপালভোগ আসে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে এবং জুনের শুরু পর্যন্ত পাওয়া যায়। অর্থাৎ গোবিন্দভোগ সাধারণত একটু আগেই বাজারে আসে।

এত বিভ্রান্তি কেন

মো. আবুল কাশেমের ভাষায়, ‘দুইটাই আগাম আম। আবার একই সময় বাজারে থাকে। তাই নতুন ক্রেতারা অনেক সময় গুলিয়ে ফেলে।’

গোপালভোগ আর গোবিন্দভোগ—দুটোই গরমের শুরুর দিকের জনপ্রিয় আম। একটিতে আছে তীব্র মিষ্টি স্বাদ, অন্যটিতে আছে সুগন্ধের আলাদা আকর্ষণ।

তাই বাজারে দাঁড়িয়ে একটু মন দিয়ে দেখলেই এই দুই আম আলাদা করাটা কঠিন কিছু নয়। বরং ঠিকঠাক চিনে আম কেনার ভেতরেও মেলে অন্য রকম আনন্দ।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়