বর্তমানে দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন)ধারীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২৮ লাখ। তবে তাদের মধ্যে প্রতি বছর মাত্র ৪০ থেকে ৪২ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দেন। বিপুলসংখ্যক টিআইএনধারী রিটার্ন জমা না দেওয়ায় আয়কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বরাবরই পিছিয়ে থাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করদাতাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতে ন্যূনতম করের ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে সরকার। নতুন বিধান অনুযায়ী, প্রথমবার আয়কর রিটার্ন জমা দিলে ন্যূনতম কর দিতে হবে মাত্র ১ হাজার টাকা। আর অন্য করদাতাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এ উদ্যোগ করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব আহরণও বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।
নতুন অর্থবছরে নতুন করদাতাদের উৎসাহিত করতে ন্যূনতম করের এই ছাড় বহাল রাখা হয়েছে। প্রথমবার রিটার্ন জমা দিলে মাত্র ১ হাজার টাকা ন্যূনতম কর দিলেই হবে। অন্যদের ক্ষেত্রে এই করের পরিমাণ ৫ হাজার টাকা।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেক ধরনের সেবা নিতে টিআইএন নম্বর প্রয়োজন হয়। সে কারণে অনেকেই টিআইএন নেন এবং পরে আয়কর রিটার্ন জমা দেন। তাদের মধ্যে অনেকে শূন্য আয় দেখিয়ে কোনো কর দেন না। এ ধরনের করদাতার সংখ্যা দেশে অনেক। তাই ন্যূনতম একটি কর নির্ধারণ করা হলে তা খুব বেশি হবে না এবং অধিকাংশ করদাতাই এটি দিতে পারবেন।
এ ছাড়া চলতি অর্থবছর থেকে সারা বছরই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। তবে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, আগে রিটার্ন জমা দিলে বেশি কর-সুবিধা পাবেন করদাতারা।
অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে কোনো প্রণোদনা থাকবে না। জানুয়ারি থেকে মার্চ প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে পরিশোধযোগ্য করের ওপর ২ শতাংশ অতিরিক্ত কর দিতে হবে। আর এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে রিটার্ন জমা দিলে দিতে হবে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর।
ড. মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, বিষয়টিকে এনবিআরের সামগ্রিক কর আহরণ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছি। কর ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হলে যাদের প্রকৃতপক্ষে কোনো আয় নেই এবং যারা শূন্য রিটার্ন জমা দেন, তাদের কর দেওয়ার প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়।
চলতি অর্থবছরে বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। আর আয়ের বিভিন্ন স্তর অনুযায়ী ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হারে আয়কর প্রযোজ্য হবে।