শিরোনাম
◈ সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় দেশজুড়ে কড়া সতর্কতা ◈ কারাতে দক্ষতার প্রদর্শন, কাঠের তক্তা ভাঙলেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (ভিডিও) ◈ দেশের সব বন্দরে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ বাংলাদেশি হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নয়, তারা শরণার্থী: শুভেন্দু ◈ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ, আগামী সপ্তাহে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের ৪৫ ব্যবসায়ী ◈ সম্পত্তি লিখে দিলেও থাকবে বাবা-মায়ের অধিকার, সম্পত্তি আইনে আসছে যুগান্তকারী সংশোধন ◈ কোনো ওষুধ নেই, নেই টিকাও! পৃথিবীর বুকে হাজির আরেক ভয়ংকর মহামারি? ◈ দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ◈ ৭৫ বছর পর সৌদিতে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, ছয় মিনিট ঢেকে থাকবে সূর্য ◈ ইনফা‌ন্তি‌নোর উদ্দে‌শ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী, ভুল ব্যক্তি ফিফার নেতৃত্ব দিচ্ছে, অবিলম্বে তার পদত্যাগ করা উচিত

প্রকাশিত : ২৯ মে, ২০২৬, ১০:৪৪ রাত
আপডেট : ০১ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এর মাধ্যমে এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক ও ভুল-বোঝাবুঝি থাকবে না বলে মনে করছেন তিনি। আজ শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে দেওয়া প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের একটি বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করার কথা জানান।

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা ও বক্তব্যের ভুল উপস্থাপন প্রসঙ্গে’ শিরোনামে ফেসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে “SameerScane” নামের একটি পডকাস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আমার কিছু মন্তব্য নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, আমার বক্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে বোঝা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার ভুল ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। তাই বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন অনুভব করছি।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রথমত, এগুলো সম্পূর্ণই তাঁর ব্যক্তিগত চিন্তা ও মতামত; এগুলো কোনোভাবেই সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়। তিনি মূলত বলতে চেয়েছেন যে সময় এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও বেশি বিশ্বমানের একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার। তাঁর বক্তব্যের উদ্দেশ্য কখনোই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করা ছিল না; বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরা ছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হলো, গত ১৭ বছরে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, একাডেমিক উৎকর্ষের পরিবর্তে স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা অনেক ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে এবং শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্লেজারিজমের (চৌর্যবৃত্তি) মতো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। আমি এসব প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করি এবং বিশ্বাস করি যে এগুলোর কোনো স্থান একটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা উচিত নয়।’

ববি হাজ্জাজ বলেন, পডকাস্টের আলোচনাটি ছিল সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত কথোপকথন। এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক, প্রাতিষ্ঠানিক বা নীতিগত আলোচনা ছিল না। যদি এটি একটি আনুষ্ঠানিক একাডেমিক বা নীতিগত আলোচনার পরিসর হতো, তাহলে বক্তব্যের ভাষা ও উপস্থাপনাও অবশ্যই আরও কাঠামোবদ্ধ ও নির্দিষ্ট হতো।

তবে একটি বিষয়ে তিনি স্পষ্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতি গঠনে তার অবদানের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তিনি চান, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং বিশ্বমানের গবেষণা, উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চার একটি স্বীকৃত কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করুক।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বর্তমানে যাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব ও দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরাও এই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আরও সমৃদ্ধ, আরও গবেষণানির্ভর এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে—এটাই আমার প্রত্যাশা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমরা এমন একটি একাডেমিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সততা, মেধা, গবেষণার মান এবং বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা সর্বোচ্চ মূল্যবোধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে; যেখানে প্লেজারিজম বা অন্য কোনো অনৈতিক একাডেমিক চর্চার কোনো স্থান থাকবে না।

সেটিই হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রতি প্রকৃত সম্মান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের দায়িত্ব। তারপরও আমার আংশিক বক্তব্যটি যেহেতু কিছুটা ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি করেছে, অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়েছেন, আমার অনেক প্রিয়জন ও শুভাকাঙ্ক্ষী মর্মাহত হয়েছেন, সে জন্য আমার এই বক্তব্য আমি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি এবং আশা করি এরপর এ বিষয়ে আর কোনো বিতর্ক ও ভুল-বোঝাবুঝি থাকবে না।’

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়