শিরোনাম
◈ বাংলাদেশে কী পরিবর্তন এসেছে গুম প্রতিরোধে? ◈ বজ্রবৃষ্টি হ‌তে পা‌রে ঢাকায়, ৮ অঞ্চলে ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের শঙ্কা ◈ হালাল পণ্যের ট্রিলিয়ন ডলারের বিশ্ববাজার, বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে? ◈ এনবিআরের অনুমতির অপেক্ষায় ২ বছর, ফিরতে পারছে না ভারতীয় দুই জাহাজ ◈ নেদারল‌্যান্ড‌সের আধিপত্য ভেঙে মেয়েদের হকি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ◈ বাংলাদেশ সফরে আসতে ইংল‌্যান্ড টাকার চিন্তা করছে না! ◈ অবশেষে দেশে আসছে ডিজিটাল ব্যাংক, অনুমোদন পেতে যাচ্ছে ৮ প্রতিষ্ঠান ◈ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ বাতলে দিল চীন ◈ সিআইপি হওয়ার নতুন নীতিমালা: যোগ্যতা, সুবিধা ও অযোগ্যতার তালিকা ◈ নামিবিয়ার কাছে পরাস্ত হওয়ার পর জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকা 

প্রকাশিত : ০৩ অক্টোবর, ২০২২, ০৬:০৮ বিকাল
আপডেট : ০৩ অক্টোবর, ২০২২, ১১:৫৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আজ মহাঅষ্টমী, আগামীকাল নবমী 

মহাঅষ্টমী

শাহীন খন্দকার: নারীকে সম্মান জানাতেই কুমারী পুজো, পৌরাণিক কাহিনি অনেক মন্দির, বারোয়ারি বা বাড়ির পুজোয় প্রথা মেনে আজও কুমারী পুজো হয়। মূলত দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিনই আয়োজিত হয় কুমারী পুজো। ড. ভবানী সহা আরও বলেন, মূলত দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিনই আয়োজিত হয়। তবে কোথাও কোথাও নবমীর দিনও হয়।

তিনি বলেন, ১-১৬ বছর বয়সী কুমারীদের দেবীজ্ঞানে আরাধনা করার প্রথা রয়েছে কুমারীপুজোয়। বয়স অনুযায়ী বিভিন্ন নামেও অভিহিত করা হয় কুমারীদের।

কোলাসুর বধের কাহিনি সর্ম্পকে  সুসং বিশ^বিদ্যালয় কলেজের সাবেক এই অধ্যক্ষ ড. ভবানী সাহা বলেন, শাস্ত্র ও পুরাণে কুমারী পুজোয় উল্লেখ রয়েছে। শোনা যায়, একসময় কোলাসুর স্বর্গ ও মর্ত্য অধিকার করে নেওয়ায় বিপন্ন হয়ে পড়ে। একসময় কোলাসুর স্বর্গ ও মর্ত্য অধিকার করে নেওয়ায় বিপন্ন হয়ে পড়ে দেবকুল। সেই সময় দেবতারা মহাকালীর শরণাপন্ন হয়।

দেবতাদের কাতর আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী পুন সনাতন ধর্মে, সম্মানের বিচারে নারীকে শ্রেষ্ঠ আসনে বসানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে শাস্ত্রকাররা নারীকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতেই এই পুজোর কথা বলেছেন। অর্থাৎ তারপর থেকেই মর্ত্যে শুরু হয় কুমারী পুজো।

ড. ভবানী সাহা বলেন, সনাতন ধর্মে, সম্মানের বিচারে নারীকে শ্রেষ্ঠ আসনে বসানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে শাস্ত্রকাররা নারীকে সম্মান ও শ্রদ্ধা জানাতেই এই পুজোর কথা বলেছেন। অর্থাৎ হিন্দু শাস্ত্রে নারীকে সন্মান ও শ্রদ্ধার আসনে বসাতে এবং দেবীর কুমারী রূপের আরাধনা করতেই এই পুজোর বিধান দেওয়া হয়েছ।

অন্যদিকে বৃহদ্ধর্মপুরাণে রামের জন্য ব্রহ্মার দুর্গাপুজোর বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। পুরাণ অনুসারে, সেই সময় ছিল শরৎকাল, দক্ষিণারায়ন  দেবতাদের নিদ্রার সময়। তাই, ব্রহ্মা স্তব করে দেবীকে জাগরিত করেন। দেবী তখন কুমারীর বেশে এসে ব্রহ্মাকে বলেন, বিল্ববৃক্ষমূলে দুর্গার বোধন করতে। দেবতারা মর্ত্যে এসে দেখলেন, এক দুর্গম স্থানে একটি বেলগাছের শাখায় সবুজ পাতার মধ্যে ঘুমিয়ে রয়েছে একটি তপ্তকাঞ্চন বর্ণা বালিকা। ব্রহ্মা বুঝলেন, সেই বালিকাই জগজ্জননী দুর্গা।
তিনি বলেন, এরপরেই বোধন-স্তবে তাঁকে জাগরিত করেন ব্রহ্মা। দেবী জাগরিত হয়ে বালিকামূর্তি ত্যাগ করে চন্ডিকামূর্তি ধারন করেন। কারও কারও মতে আবার প্রাচীনকালে মুনিঋষিরা কুমারীপুজোর মাধ্যমে প্রকৃতিকে পুজো করতেন। প্রকৃতি মানে নারী। সেই প্রকৃতিরই আর এক রূপ কুমারীদের মধ্যে দেখতে  পেতেন তাঁরা।

এই প্রসঙ্গে শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছেন, সমস্ত স্ত্রীলোকই ভগবতীর এক একটি রূপ। আর শুদ্ধাত্মা কুমারীতে সেই ভগবতীর প্রকাশ বেশি। 

এদিকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, সারাদেশে এ বছর ৩২ হাজার ১৬৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। আজ সোমবার মহাঅষ্টমী ছিলো। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার তৃতীয় দিনে ৩ অক্টোবর রাজধানীসহ সারাদেশের পূজামন্ডপগুলোতে পূজা-অর্চণার মাধ্যমে উদযাপিত হয় মহাঅষ্টমী। দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। তবে অষ্টমীর মূল আকর্ষণ কুমারী পূজা। 

পুজা উদযাপন কমিটি এক বিবৃতিতে বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত দুই বছর রাজধানী ঢাকায় কুমারী পূজা হয়নি। এবার সেই কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে সকাল ১১টার দিকে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল ৯টার দিকে এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ছাড়াও বরিশাল, নাটোর, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবার কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। কুমারী পূজাকে ঘিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যদিয়ে শনিবার শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী সার্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব। রবিবার ছিল মহা সপ্তমী পূজা।  সোমবার মহা অষ্টমী। আগামীকাল মঙ্গলবার মহা নবমী এবং  বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, সারাদেশে এ বছর ৩২ হাজার ১৬৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। ঢাকা মহানগরে পূজার সংখ্যা ২৪১টি। এ সব মন্ডপে শারদীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি পূজা উদযাপন কমিটিও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি মন্ডপে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি করা হয়েছে মণ্ডপ পাহারার জন্য।

  • সর্বশেষ