শিরোনাম
◈ কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩৯০ কোটি টাকা দেবে কানাডা ◈ মাঝ আকাশে দরজা খুলে ঢাকায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের জরুরি অবতরণ, রোগীর মৃত্যু ◈ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বিস্তারিত যে তথ্য চাইলো ঢাকা ◈ মেসির জোড়া গোলে ইন্টার মিয়ামির দাপু‌টে জয় ◈ চিকিৎসা নিতে এসে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ঢামেকের রোগীরা ◈ ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি, স্বাগত জানালেন বাফুফে সভাপতি ◈ গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার, যেভাবে মিলবে ◈ বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি ◈ মাতারবাড়ী বন্দরকে শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে চায় জাপান, যুক্ত হবে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল ◈ নুডলস খেয়ে নয় যে কারণে একই পরিবারের ৫ জনের মৃত্যু, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশিত : ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:৪১ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ধামরাইয়ে সুদ কারবারির চাপে চার পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে যুবকের আত্মহত্যা

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার ধামরাইয়ে সুদ কারবারিদের চাপ ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে চার পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। চিরকুটে নিজের মৃত্যুর জন্য স্থানীয় এক সুদ কারবারিকে দায়ী করে কঠোর বিচার দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার সকালে ধামরাই উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বাইশাকান্দা এলাকার মাঝিপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুমন রাজবংশী অপু (৩৬)। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত সুমন রাজবংশী অপু ওই গ্রামের মৃত আনন্দ রাজবংশীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল থেকে অপুর লেখা চার পৃষ্ঠার একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে তিনি উল্লেখ করেন, তার মৃত্যুর জন্য স্থানীয় জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে দায়ী করা হচ্ছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, টাকার লোভ দেখিয়ে চক্রবৃদ্ধি সুদের মাধ্যমে তার ধানক্ষেত ও রাস্তার জমি লিখে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে কোনো সাক্ষী–প্রমাণ ছাড়াই বাড়ির দলিল নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার বাড়ির দলিল ও জাতীয় পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে এবং কোনো টাকা না দিয়েই তার জীবনের সবকিছু ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

চিরকুটের অন্য অংশে স্ত্রী ও সন্তানদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা রেখে যান অপু। সেখানে তিনি স্ত্রীকে ক্ষমা করতে অনুরোধ করেন এবং সন্তানদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা ও মায়ের কথা শোনার আহ্বান জানান।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, অপু স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলমের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়েছিলেন। শনিবার ভোররাতেও সুদের টাকা পরিশোধের জন্য তাকে মুঠোফোনে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুদের টাকায় কেনা একটি অটোরিকশা পরিশোধের চাপ সামলাতে গিয়ে বিক্রি করতে হয় অপুকে। পরে জমি বিক্রি করেও দেনা শোধ করা সম্ভব হয়নি।

নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সকালে উঠে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি অভিযোগ করেন, জাহাঙ্গীর ও শাহীন নামের ব্যক্তিরা নিয়মিত সুদের টাকার জন্য চাপ দিতেন এবং তার ছেলের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জমির দলিল নিয়ে গেছেন।

এ ঘটনায় ধামরাই থানার পুলিশ জানায়, চিরকুটটি তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।