শিরোনাম
◈ রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের গোয়েন্দা সংস্থা সম্পর্কিত অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন রণধীর জয়সওয়াল ◈ আবেদনের চেয়েও ১ কোটি টাকা বেশি: বড়দিনে ৩ কোটি টাকা অনুদানের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ◈ কারাগারে বসেই আয়, পরিবারের কাছেও টাকা পাঠাচ্ছেন বন্দিরা ◈ দালাল ছাড়াই বিনা খরচে প্রশিক্ষণ নিয়ে ইতালি যাওয়ার সুযোগ ◈ ক্রিকেট থে‌কে অ‌স্ট্রেলিয়ান গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের বিদায় ◈ দ্বিতীয় পদ্মা, যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ◈ শত্রুর বস্তুগত ও অবস্তুগত সব সম্পদ ইরা‌নের নিশানায়: মেজর জেনারেল আব্দুল্লাহি  ◈ ঢাকার চালে ২৭% ও চিড়ায় ৫৫% ক্যান্সার সৃষ্টিকারী আফলাটক্সিন, গবেষণায় মিলল উদ্বেগজনক তথ্য ◈ আগামী চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধের খবর গুজব, কমতে পারে সরবরাহ: পেট্রোবাংলা

প্রকাশিত : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৮ রাত
আপডেট : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩১ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পুলিশের বহরে যুক্ত হবে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যানসহ ৫৮৩০ বাহন, ব্যয় ৬৬০৮ কোটি টাকা

বাংলাদেশ পুলিশের জন্য দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যান ও এটিভিসহ পাঁচ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনা হবে। যানবাহনগুলো সংগ্রহ করা হবে দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে। মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ছয় হাজার ৬০৮ কোটি টাকা।

জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানার মাধ্যমে জনসেবা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ পুলিশ। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন, দুর্গম স্থানে দ্রুততম সময়ে পৌঁছাতে আধুনিক যানবাহন প্রয়োজন বাহিনীটির।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, একটি আধুনিক ও দক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য বিশেষায়িত যানবাহনের কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের যানবাহন কেনা একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বিশেষায়িত যানবাহন পুলিশের কার্যক্রমের গতিশীলতা নিশ্চিত করে।

বিশেষায়িত যান

Advertisement

জনশৃঙ্খলাসহ অপরাধ দমন পরিস্থিতিতে বা জরুরি অবস্থায় সাধারণ টহল গাড়ির চেয়ে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী যান (রায়ট কন্ট্রোল ভেহিকল) অনেক দ্রুত এবং কার্যকর ভূমিকা রাখে। এছাড়া, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে অপরাধ দমনে সাধারণ যানবাহনের সীমাবদ্ধতা আছে। তবে বিশেষায়িত এটিভি (সর্বভূমিতে চলাচলযোগ্য যান) সহজেই প্রবেশ করতে পারে। এ ধরনের যানবাহনগুলো পুলিশকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে।

মোবাইল কমান্ড সেন্টার অপারেশন পরিচালনার সময় একটি ভ্রাম্যমাণ কন্ট্রোল রুম হিসেবে কাজ করে, যেখানে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ক্রাইম সিন ভ্যান অপরাধস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন। এটি তদন্ত প্রক্রিয়াকে সহজ ও অপরাধী শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার জন্য আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিশেষায়িত যানবাহন অপরিহার্য। জনসমক্ষে এ ধরনের আধুনিক যানবাহনের উপস্থিতি বাহিনীর সক্ষমতার একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সে পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

পুলিশের সক্ষমতা বাড়বে

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনসেবায় দ্রুত সাড়া নিশ্চিতসহ বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়িয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো হবে। এ লক্ষ্যেই জরুরিভিত্তিতে পুলিশের দীর্ঘদিনের যানবাহন সংকট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও দেশব্যাপী আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রম জোরদারে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বিবেচনার জন্য দুটি প্রকল্প উপস্থাপন করবে।

গত ২৫ অক্টোবর একনেক সভায় প্রকল্প দুটি উপস্থাপন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একনেক সভা উপস্থাপন না হওয়ায় প্রকল্প দুটি অনুমোদন পায়নি। বুধবার (৪ নভেম্বর) একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রকল্প দুটি কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

দুই প্রকল্পে ব্যয় ৬৬০৮ কোটি টাকা

প্রকল্পের মাধ্যমে যানবাহনের মেকানিক ও চালকের প্রশিক্ষণ এবং যানবাহন কেনা হবে বলে জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। চার হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে চার হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল যানবাহন কেনায়। আর দুই হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা হবে এক হাজার একটি বিশেষায়িত যানবাহন। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সব ব্যয় সরকার বহন করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা-১ অধিশাখা) মীর্জা মোহাম্মদ আলী রেজা জাগো নিউজকে বলেন, ‘পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে দুটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে মোট পাঁচ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনা হবে।’

অনেক থানায় মাত্র একটি পিকআপ ভ্যান। এটা দিয়ে কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হবে। পুলিশকে রসদ না দিলে কাজ করবে কীভাবে। গত একনেক সভা হয়নি। তবে সামনের একনেক সভায় প্রকল্প দুটি উপস্থাপন করা হবে।-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (পরিকল্পনা-১ অধিশাখা) মীর্জা মোহাম্মদ আলী রেজা

দুটি প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৬ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক থানায় মাত্র একটি পিকআপ ভ্যান। এটা দিয়ে কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হবে। পুলিশকে রসদ না দিলে কাজ করবে কীভাবে। গত একনেক সভা হয়নি। তবে সামনের একনেক সভায় প্রকল্প দুটি উপস্থাপন করা হবে।’

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক পুলিশ স্টেশনে বর্তমানে প্রায় এক লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে পরিষেবা দেওয়ার জন্য এক হাজার ২৩৭টি যানবাহন রয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে গড়ে দুটিরও কম যানবাহন এবং বিদ্যমান বহরের প্রায় ৬৪ শতাংশ এক দশকেরও বেশি পুরোনো হওয়ায় পুলিশকে নিয়মিত টহল বজায় রাখা, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং সবচেয়ে প্রয়োজনীয় স্থানে কর্মী মোতায়েন করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।

প্রস্তাবিত বিনিয়োগের ফলে পুলিশের চলাচল সক্ষমতা ও কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে অপরাধ, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় পুলিশ আরও কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পারবে।

বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটাতে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যানবাহন, দুর্গম এলাকায় চলাচল উপযোগী যানবাহন, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার ও অপরাধস্থল পরিদর্শনের জন্য বিশেষায়িত ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব যানবাহন জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা, মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় এবং ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে আলামত সংগ্রহে সহায়তা করবে।

আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় দেশের বিস্তৃত নদীপথে পুলিশি কার্যক্রম জোরদারে স্পিডবোট ও দেশীয় নৌকা কেনার প্রয়োজনীয়তাও চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জলযানগুলো নৌপথে টহল, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করবে।

যানবাহন কেনার পাশাপাশি প্রকল্প দুটিতে সেগুলো পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অপারেশনাল যানবাহন প্রকল্পের অধীনে ৬৫০ জনকে হালকা যানবাহন চালনা ও মেকানিক প্রশিক্ষণ, ৩০০ জনকে ভারী যানবাহন চালনা ও মেকানিক প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনকে যানবাহন মেরামত বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এছাড়া বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯১০ জন কর্মীর জন্য ড্রাইভিং ও মেকানিক প্রশিক্ষণ এবং আরও ৫০ জনের জন্য মেকানিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। অপারেশনাল প্রকল্পে যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামতের সরঞ্জাম এবং যন্ত্রপাতির জন্য রাখা হয়েছে দেড় কোটি টাকা।

সূত্র : জাগো নিউস ২৪ 

  • সর্বশেষ