আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ এবং কেন্দ্রীয় খাতামুল আম্বিয়া (সা.) সদর দপ্তরের কমান্ডার এক বার্তায় ইরানকে বিশ্বের চতুর্থ শক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তৃতীয় আরোপিত যুদ্ধের পর ইরান অবস্থান অর্জন করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি তার বার্তায় বলেছেন, ফার্সি ১৩ আবান (৪ নভেম্বর) হচ্ছে ‘বিশ্ব আধিপত্যবাদবিরোধী জাতীয় দিবস’। এটি ইরানি জাতির জন্য নিছক কোনো ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়; এটি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল। ইরানিদের ঐতিহাসিক স্মৃতিতে এই দিনটি তিনটি শিক্ষণীয় ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, ইমাম খোমেনিকে (রহ.) নির্বাসনে প্রেরণ, বিপ্লবী শিক্ষার্থীদের হত্যাকাণ্ড এবং মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র—মার্কিন দূতাবাস দখল। এসব ঘটনা বহু আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি জাতির কাছে অপরাধী করে রেখেছে। --- পার্সটুডে
তিনি আরও বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বহুমাত্রিক সংঘাত কেবল একটি সামরিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি বিশ্বশক্তির ভারসাম্যের কাঠামোই বদলে দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথে প্রবেশের নিয়ম নির্ধারণের মধ্য দিয়ে শক্তিশালী ইরান বিশ্বের চতুর্থ শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এখন এই নতুন বাস্তবতার সামনে নতিস্বীকার করছে যে, ‘আঞ্চলিক জাতি ও শক্তিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর না করেও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।’
মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেন, সামরিক শক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়, এটি একটি হাতিয়ার মাত্র। ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে বাস্তবতা ও সময়ের প্রয়োজনীয়তার আলোকে আমাদের সামরিক নীতি এখন ‘প্রতিরক্ষা’ থেকে ‘আক্রমণাত্মক’ এবং ‘সংকট ব্যবস্থাপনা’ থেকে ‘নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার’ দিকে অগ্রসর হয়েছে।
ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের বার্তায় আরও বলা হয়, শত্রুদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে জোর দিয়ে বলতে চাই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং দেশের ইতিহাস গড়া প্রতিরক্ষাকর্মীরা ইরানি জনগণের ব্যাপক সমর্থনকে নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ইরানবিরোধী শক্তির মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা নিশ্চিত করতে তারা বুদ্ধিদীপ্ত ও সুপরিকল্পিত সামরিক প্রস্তুতিকে অপরিহার্য মনে করে। শত্রুর লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করার পাশাপাশি মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলি শত্রুদের বস্তুগত ও অবস্তুগত সব সম্পদকে নিশানায় রাখা হয়েছে। যেকোনো মাত্রা ও ধরনের হুমকির জবাব তাৎক্ষণিকভাবে, কার্যকরভাবে এবং কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ছাড়াই দেওয়া হবে বলে আব্দুল্লাহি জানিয়েছেন।