মনিরুল ইসলাম: ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও একটি বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ সমাজের প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের তরুণরা চাইলে বাংলাদেশকে বদলে দেওয়া সম্ভব, যেমনটি তারা অতীতে করে দেখিয়েছে।
আজ শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বড় শক্তি। স্কাউটস, বিএনসিসি, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের লাখো তরুণ এই অভিযানে যুক্ত হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অনেকটাই সম্ভব হবে। তিনি জানান, দেশে প্রায় ২৩ লাখ স্কাউটস সদস্য, ২২ হাজার বিএনসিসি সদস্য এবং স্কুল-কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে—যারা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আগামী তিন মাসে ডেঙ্গু সমস্যার সমাধানে জোরালো প্রচেষ্টা চালানো হবে। শতভাগ না হলেও অন্তত ৮০ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু মূলত জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র ও প্লাস্টিকে জন্ম নেয়। তাই সবাইকে নিজ নিজ বাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করলেই এ সমস্যা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের অসচেতনতার দিকেও ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে হবে। ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়ানো রোগজীবাণু শেষ পর্যন্ত নিজের পরিবার ও সমাজের জন্যই ঝুঁকি তৈরি করে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ‘পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন সমাজ এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং তরুণদের এই লক্ষ্য অর্জনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।