মনিরুল ইসলাম : পরিপূর্ণ সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আংশিক সংস্কারের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপন পর্ব বর্জন করে তারা এই কর্মসূচি পালন করে।
সংসদ সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর আইনপ্রণয়ন কার্যক্রম শুরুর আগে বিরোধী দলীয় সদস্য ডা. শফিকুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি জুলাই সনদ, সংবিধান সংস্কার পরিষদ এবং সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির বিষয় তুলে ধরেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হওয়ায় তিনি কঠোর সমালোচনা করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ঘোষণা দেন, নির্ধারিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ও গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল উত্থাপন পর্বে বিরোধী দল অংশ নেবে না। এরপর রাত ৮টা ৬ মিনিটে বিরোধী দল সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থাপন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন বা অননুমোদনের সময়সীমা ছিল ১০ এপ্রিল পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ে ১৬টি অধ্যাদেশ বিল আকারে আনা হয়নি, ফলে সেগুলো কার্যকারিতা হারায়। এছাড়া সাতটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়।
সরকার জানিয়েছিল, গুম প্রতিরোধ, পুলিশ কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন)সহ যেসব অধ্যাদেশ সময়মতো বিল আকারে আনা হয়নি, সেগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করে নতুনভাবে উপস্থাপন করা হবে। এর অংশ হিসেবে গত ৩ আগস্ট গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের খসড়া এবং ১০ আগস্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পায়।
তবে এসব খসড়া অনুমোদনের পর থেকেই মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দেয়। বিশেষ করে আইনের কিছু ধারার বিষয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিরোধী দল এই সমালোচনাকেই সামনে এনে সংসদে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে এবং ওয়াকআউটের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়।