মনিরুল ইসলাম: সংসদে গ্যাস ও বিদ্যুতের চলমান সংকট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য । তিনি বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মানুষ ব্যঙ্গ করে বলছে—“টুকু আসে, টুকু যায়।”
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “মাননীয় স্পিকার, জ্বালানি নিয়ে আর কী বলবো! গ্যাস আর বিদ্যুতের অবস্থা এমন—এই আসে, এই যায়; কতক্ষণ থাকে, কেউ বুঝতে পারে না।” তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে তেলের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের হাহাকার এবং গ্যাস সংকট জনজীবনকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
জ্বালানি খাতের দায়িত্বে পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আর বাস্তবতায় মানুষ বলছে ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—এটি এখন জনমতের প্রতিফলন।
রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাজারে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। “৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই, ডিমের দাম বেড়েছে, মিনিকেট চালের দামও ঊর্ধ্বমুখী। টিসিবির লাইনে দীর্ঘ ভিড়—এটাই বর্তমান বাস্তবতা,” বলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যদি ৬৪ জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতো, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি আরও ‘ভালো’ হতো।” তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে ব্যঙ্গ বা কথার মারপ্যাঁচে বিষয় এড়িয়ে যান।
কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার এক কোটি নতুন চাকরি সৃষ্টির কথা বললেও বাস্তবে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। “ক্ষমতায় আসার পর প্রায় ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছে, ৯০০-এর বেশি কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কর্মসংস্থান তো দূরের কথা, যারা চাকরিতে আছেন তাদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত,” বলেন তিনি।
তার এই বক্তব্যে জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের প্রতি তীব্র সমালোচনা উঠে আসে, যা সংসদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।