মনিরুল ইসলাম: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ বৈশ্বিক মর্যাদা ও দায়িত্বের প্রতীক, যা কোনো একক দেশের স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ নেই বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
তিনি বলেন, এই পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বিশ্বের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং তাকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়।
আজ বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ঢাকার সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক অনন্য গৌরবের বিষয়। তবে এই পদ ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ সীমিত। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার যেমন সব সদস্যের অভিভাবক হিসেবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেন, তেমনি সাধারণ পরিষদের সভাপতাকেও সকল সদস্য রাষ্ট্রের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে হয়।
জলবায়ু কূটনীতি জোরদার
সংসদে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই সামান্য হলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবের মুখোমুখি।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও আন্তঃসীমান্ত পানি সম্পদ’ নামে একটি বিশেষ অনুবিভাগ গঠন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক তহবিল থেকে অনুদান ও স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের ওপর ঋণের চাপ না বাড়িয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের জন্য কাজ করছে সরকার।
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অর্জন
মীর আহমদ বিন কাসেমের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মাত্র ১০ সপ্তাহের নিবিড় আন্তর্জাতিক প্রচারণার মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ অর্জন সম্ভব হয়েছে, যা দেশের জন্য এক বড় কূটনৈতিক সাফল্য।
‘মক্কা প্যাক্ট’ নিয়ে সরকারের অবস্থান
এদিকে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা প্যাক্ট’-এ বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান।
জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক। সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বের এই ধরনের উদ্যোগ মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।