মনিরুল ইসলাম : জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সদস্যদের নাম পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো চূড়ান্ত করা হবে।
আজ বুধবার সংসদ ভবনে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হতে পারে—৫, ৭ বা ১০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।
চীফ হুইপ বলেন, এ অধিবেশনে প্রায় ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপিত হতে পারে। এর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষাবিষয়ক বিল উল্লেখযোগ্য। সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত প্রস্তাবিত আইনে বাবা-মা জীবিত থাকা পর্যন্ত তাদের ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি রাখা হচ্ছে, যাতে সন্তানদের অবহেলা প্রতিরোধ করা যায়।
সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইনে সংশোধন আনতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের একটি কমা বা দাঁড়ির পরিবর্তনও সংস্কারের অংশ। এ লক্ষ্যে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে চীফ হুইপ বলেন, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানানো বিরোধী দলের দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল সংসদের ভেতরে থেকেই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে।
চলমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাত্র ছয় মাসে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খাতের মতো বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগে। জনগণকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
বিদ্যুৎ খাতে পূর্ববর্তী সরকারের চুক্তির সমালোচনা করে চীফ হুইপ বলেন, এসব চুক্তির ফলে দেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে উৎপাদন না করেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধের বিষয়টি জনগণের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদানির সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তিকেও তিনি ‘গর্হিত অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, তৃতীয় অধিবেশনের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।