শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান মন্ত্রীর ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুব বেশি দেরি হবে না: সিইসি ◈ দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক, বাণিজ্য বাধা দূর করার উদ্যোগ ◈ নুসরাত হত্যা মামলা: সিরাজসহ ২ জনের ফাঁসি বহাল, ৪ জনের যাবজ্জীবন ◈ বার্সেলোনার বড় জয়, এল‌চে‌কে গোল বন‌্যায় ভাসা‌লো ◈ যে কারণে বিএনপি মিডিয়া সেল থেকে অব্যাহতি দিল তানিম সুফিয়ানীকে ◈ রংপুরে শিক্ষক ও স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার ঘটনায় আদালতে দুই আসামির স্বীকারোক্তি ◈ ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামাতে চায় সরকার, গুরুত্ব পাচ্ছে দ্রুত চিকিৎসা ◈ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনির্দিষ্টকাল বিনাবিচারে আটক বন্ধের আহ্বান এইচআরডব্লিউর ◈ অস্ট্রেলিয়ার কাছে বাংলাদেশের পরাজ‌য়ে লাভ হ‌লো ভারতের 

প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ০২:০৮ দুপুর
আপডেট : ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ০২:৫৬ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক, বাণিজ্য বাধা দূর করার উদ্যোগ

বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে বৈঠক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকে বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু, স্থলবন্দরগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনা এবং স্থলপথে সুতা আমদানির বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যৌথ বিনিয়োগ, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রয়েছে। তবে গত দেড় বছরে কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি কমেছে। এসব বাধা চিহ্নিত করে বাণিজ্যকে কীভাবে আরও সহজ ও কার্যকর করা যায়, বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আরও বলেন, চীনের পর ভারত বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে স্থলবন্দরগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যকর করা, বন্ধ থাকা সীমান্ত হাট পুনরায় চালু এবং স্থলপথে সুতা আমদানির ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ টাস্কফোর্স গঠন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের প্রস্তাবও বৈঠকে এসেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে গতি ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও উভয় দেশের সাধারণ মানুষ উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। কোনো দেশ বড় বা ছোট নয়; উভয় দেশ সমতার ভিত্তিতে কাজ করবে। এই সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক যত শক্তিশালী হবে, অন্যান্য ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সুযোগ তত বাড়বে।

যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশ্ববাজারে অত্যন্ত সফল। এ খাতে ভারত জিপার, বোতাম, মেশিনারি ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে পারে। এতে দুই দেশের শিল্পখাতের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়বে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা দেখে তিনি গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাতকে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

সীমান্ত বাণিজ্যের অবকাঠামো শক্তিশালী করা, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং যৌথ বিনিয়োগ ও উৎপাদনের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

  • সর্বশেষ