আদালতের অনুমতি ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক দেশ ছাড়তে পারবেন না বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এ ছাড়াও হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে বনানী থানায় করা মামলায় হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের জামিন বহাল রাখেন। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনও বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন সাজু। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
গত ১০ আগস্ট বনানী থানার মামলায় খায়রুল হককে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। পৃথক আটটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর বনানী থানার এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে গত ৮ জুলাই তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এর আগে গত ২৭ জুলাই নিম্ন আদালত তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ আগস্ট হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন খায়রুল হক। শুনানি শেষে ১০ আগস্ট আদালত তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। সেই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মহাখালীর সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে শাহবাগের দিকে যাওয়ার পথে তাদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন।
এ ঘটনায় উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে আসামি করা হয়।