শিরোনাম
◈ শিক্ষকতা থেকে রাষ্ট্রপতি পদে, মির্জা ফখরুলের বর্ণিল রাজনৈতিক যাত্রা ◈ এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা পেলেন মাঠ কর্মকর্তারা ◈ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ জুলাই জাদুঘরের নিদর্শন নষ্ট করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড ◈ রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে বিএনপিতে বড় রদবদল, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন সালাউদ্দিন আহমদ, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী ◈ সরকার ও দল থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত ও ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চেয়ে হাইকোর্টে রিট ◈ আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা: বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল, ১১ দলীয় জোট মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে

প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৫১ দুপুর
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:২৯ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জুলাই জাদুঘরের নিদর্শন নষ্ট করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা কারাদণ্ড ও জরিমানা-দুই দণ্ডেরই বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, স্মৃতি, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে প্রণীত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, ২০২৬’-এ এসব বিধান রাখা হয়েছে।

১০ এপ্রিল প্রণীত হয় আইন: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিল সংরক্ষণ, গবেষণা এবং প্রদর্শনের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে গত ১০ এপ্রিল আইনটি প্রণয়ন করা হয়।

এই আইনের আওতায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখতে গড়ে তোলা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গত ৫ আগস্ট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পরদিন থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়।
গণভবনে প্রধান কার্যালয়

আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকার গণভবনে।

এ ছাড়া ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যেসব গোপন কারাগারে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার থাকবে জাদুঘরের।
কোনো গোপন কারাগার যদি কোনো সংস্থার অধীন থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংস্থা সেটি যে অবস্থায় রয়েছে, সেই অবস্থাতেই জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকবে। এসব মানবতাবিরোধী কারাগার জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসেবে পরিগণিত ও পরিচালিত হবে।

কী কী সংরক্ষণ করবে জাদুঘর: আইনের ৫ ধারায় জাদুঘরের কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়ন সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন।

এর পাশাপাশি পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিদর্শনও সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করবে জাদুঘর।

এ ছাড়া গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম, ফ্যাসিবাদের উত্থান এবং সংশ্লিষ্ট প্রামাণ্য দলিল, বস্তু ও স্মৃতিচিহ্নও জাদুঘরের সংগ্রহ ও গবেষণার আওতায় থাকবে।

নিদর্শন বিনিময় ও উপহার দেওয়া যাবে: আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘর পর্ষদের সুপারিশ এবং সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, অন্য কোনো জাদুঘর বা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় করতে পারবে।

এ ছাড়া জাদুঘর এসব নিদর্শন উপহার হিসেবে দিতে বা গ্রহণ করতে পারবে। তবে স্থায়ী বা অস্থায়ী বিনিময় কিংবা উপহার দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

নিদর্শনের সন্ধানে পরিদর্শনের ক্ষমতা: আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কোনো নিদর্শন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে মহাপরিচালক বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন।

আইন বা এর অধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী পরিদর্শনের পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

নির্ধারিত মূল্যে জাদুঘরে প্রবেশ: জাদুঘরে প্রবেশাধিকার বিষয়ে আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, পর্ষদ নির্ধারিত প্রবেশমূল্য পরিশোধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জাদুঘরে প্রবেশ করতে পারবেন।

স্থাবর নিদর্শন নষ্ট করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড: আইনের ২২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন বা এর কোনো অংশ ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড—উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

অস্থাবর নিদর্শন চুরি-পাচারেও কঠোর শাস্তি: আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী, জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করাও অপরাধ।

এ অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

নিদর্শনে লিখলেও শাস্তি: জাদুঘরের সংগৃহীত বা নিবন্ধিত কোনো নিদর্শনের ওপর খোদাই, লিখন, লিপি উৎকীর্ণ বা স্বাক্ষর করলেও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী, এ অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: আইনের ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এসব অপরাধে অভিযুক্ত হলে প্রচলিত দণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম নেওয়া যাবে।

তবে এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আইনের এসব বিধানের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, নিদর্শন ও ঐতিহাসিক দলিল সুরক্ষায় কঠোর আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সূত্র: বাসস

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়