শিরোনাম
◈ দুই দিনের দুর্গম যাত্রা, গোপনে যেভাবে বাংলাদেশে ঢুকছেন রোহিঙ্গারা ◈ জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলা, দুই মার্কিন সেনা নিহত ◈ স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফনের আভাস ◈ পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনে বড় পদক্ষেপ, ১,৪০০ ইভি বাস আনছে সরকার ◈ আবারও বন্যার আশঙ্কা দেশের ৭ জেলায়  ◈ মসজিদুল হারামে নতুন প্রযুক্তি, যেসব সুবিধা পাবেন হাজিরা ◈ রোববার থেকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং-২৬’ ◈ কুয়েতে মার্কিন সামরিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করল ইরান ◈ বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ হয়ে ওঠে ‘আরেক আর্জেন্টিনা’ : নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন ◈ ফাইনালের আগে রেফারিকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান স্পেন ডিফেন্ডার আইমে‌রিকের

প্রকাশিত : ১৮ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৩৯ রাত
আপডেট : ১৯ জুলাই, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

উন্নয়ন থেকে সুশাসন: সরকারের ১৫০ দিনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মনিরুল ইসলাম: সরকারের প্রথম ১৫০ দিন পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস বিফ্রিংয়ে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারক মহলের তিন পরিচিত মুখ— প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর  প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ ( সালেহ শিবলী) এবং  প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে সরকারের অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার কৌশলগত দিকনির্দেশনা।

তারা বলেন, ১৫০ দিনের এই সময়কালকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দিয়ে মূল্যায়ন করলে চলবে না; বরং প্রশাসনিক দক্ষতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের আস্থা অর্জনের বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

মাহদী আমিন তার বক্তব্যে সরকারের প্রাথমিক কার্যক্রমকে “গতি সঞ্চারের ধাপ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নীতি নির্ধারণ, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। তিনি মনে করেন, এই সময়ের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—নীতিগত স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাস্তব অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন, বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে।

অন্যদিকে আতিকুর রহমান রুমন তার বক্তব্যে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, সরকার একটি “ট্রানজিশনাল ফেজ”-এর মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে রাজনৈতিক সমঝোতা এবং অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধী মতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করতে পারলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি মত দেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

প্রেস সচিব সালেহ শিবলী তার বক্তব্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলেন, সরকারের ১৫০ দিনের কার্যক্রমে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ দেখা গেলেও তা এখনও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে পারেনি। তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব।

তিন জনের  বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে আসে—সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, নীতিগত ঘোষণা থেকে বাস্তব ফলাফল নিশ্চিত করা। তারা মনে করেন, আগামী দিনগুলোতে সরকার যদি সুশাসন, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক সংলাপকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে পারে, তাহলে এই ১৫০ দিনের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে একটি টেকসই উন্নয়ন পথরেখা তৈরি করা সম্ভব হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়