মনিরুল ইসলাম: বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে রাজধানীতে দুটি বড় আকারের Waste-to-Energy (WTE) প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন তারেক রহমান।
আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, চীনের CMEC Group ঢাকার আমিনবাজার এলাকায় একটি আধুনিক বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পটি প্রতিদিন প্রায় ৩,০০০ টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবে এই কেন্দ্র। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ২৫ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার B&F Company ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইলে একটি সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পের আওতায় বছরে প্রায় ১৫,০০০ টন মিথেন গ্যাস উৎপাদন করা হবে, যা থেকে বছরে প্রায় ৮১,০০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা (MWh) বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। দৈনিক হিসেবে যা প্রায় ২২১ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের সমতুল্য।
প্রকল্পটির বিশেষ দিক হলো—বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ, জৈব সার, পশুখাদ্য এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টন বর্জ্য ব্যবহার করে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হবে, যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্প দুটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ দেন এবং একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক আয়োজনের কথা বলেন। তিনি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মীর শাহে আলমসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশ নেন।
এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় টেকসই সমাধান আসার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।