মনিরুল ইসলাম: টানা মুষলধারে বৃষ্টিতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। শহরের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে শান্তিনগরসহ নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৩০ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্বল্প সময়ের এই ভারী বর্ষণে রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত পানি জমে যায়। এতে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও শ্রমজীবী মানুষের চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, গ্রিন রোড, মালিবাগ, শান্তিনগর, মিরপুর ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন নিচু এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়। অনেক এলাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং কোথাও কোথাও প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বিভাগে আগামী ২৪ ঘণ্টায় অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এই বৃষ্টিপাতের ধারা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, মধ্য উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের লঘুচাপ দুর্বল হয়ে মৌসুমি অক্ষের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এর প্রভাবে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত একটি সক্রিয় মৌসুমি প্রবাহ তৈরি হয়েছে। এর ফলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই দাবি করছেন, ‘গত ২০ বছরে এমন বৃষ্টি হয়নি।’ তবে দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকায় ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা নতুন কোনো ঘটনা নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, গড়ে প্রতি ১৬ মাসে একবার রাজধানীতে বড় ধরনের জলাবদ্ধতা বা বন্যাসদৃশ পরিস্থিতি দেখা দেয়। তাই এবারের বৃষ্টিপাত তীব্র হলেও একে ‘গত ২০ বছরের নজিরবিহীন’ বলে দাবি করার পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি এবং চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে বিজ্ঞানীরা একমত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ হলো অপরিকল্পিত নগরায়ন, খাল-নদী দখল ও ভরাট, দুর্বল ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি। এসব কারণ একসঙ্গে কাজ করায় সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে।
তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর নগর পরিকল্পনা, খাল ও জলাধার পুনরুদ্ধার এবং আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।