শিরোনাম
◈ এলপি গ্যাসের দাম কমল ◈ শিক্ষাখাতে বড় নিয়োগের ইঙ্গিত, ১ লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগ হবে ◈ তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতায় প্রস্তুত চীন, সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের: চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ◈ দু'মুঠো ভাতের জন্য যেখানে ভোরে মানুষের হাটে মানুষ বিক্রি! ◈ ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পথে সরকার, ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য চাওয়া হয়েছে ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফর শুধু কূটনীতি নয়, ভারতের জন্যও সতর্কবার্তা: ফরেন পলিসি ◈ ২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন করতে যা প্রয়োজন, জানাল মন্ত্রণালয় ◈ এবার গ্যাস বিল পরিশোধের নামে প্রতারণা, গ্রাহকদের সতর্ক করল তিতাস ◈ জন্মের পরই মিলবে ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি, এক প্ল্যাটফর্মে সব সরকারি সেবা ◈ ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের অনুমতি দিল আপিল বিভাগ

প্রকাশিত : ০২ জুলাই, ২০২৬, ০২:৫৩ দুপুর
আপডেট : ০২ জুলাই, ২০২৬, ০৪:০৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

শিক্ষাখাতে বড় নিয়োগের ইঙ্গিত, ১ লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগ হবে

‎এক লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ৩২ হাজার ৫০০ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-প্রভাষক পদে ৭০ হাজার জন নিয়োগের কথা রয়েছে।

আজ ‎বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

শিক্ষা‎মন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষকের নিয়োগের বিষয়ে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করেছেন। আপিল বিভাগ আমাদের আপিল গ্রহণ করেছেন এবং আমরা এখন ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর সাথে আরও প্রায় ৭০ হাজার জন (এমপিওভুক্ত শিক্ষক-প্রভাষক) অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় খবর।’

‎এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য থাকা প্রায় ৭৮ হাজার পদে নতুন পদ্ধতিতে সরাসরি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক, প্রভাষক ও ট্রেড ইন্সট্রাকটর পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসিএ।

‎এতদিন নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাছ থেকে শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন নিয়ে তাঁদের নিয়োগ সুপারিশ করা হলেও নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীদের সরাসরি শূন্য পদে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।

‎আগে মন্ত্রীদের পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্রে পরিদর্শনে ঢুকে পরীক্ষার্থীদের বিরক্তির কারণ হতে দেখা গেলেও সে ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

‎তিনি বলেন, ‘আজ সকালে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আমাদের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করার কথা ছিল, কিন্তু সম্ভবত আমাদের সহকর্মীরা মনে করেন যে আমাদের সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সেই কারণেই সবাই এই কক্ষে বসে আছি, কিন্তু আগে এমনটা হতো না। অনেক বড় পরিবর্তন এসেছে।’

পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তি হলেও পরীক্ষা দিচ্ছেন না বলে তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণ ধারার প্রায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। তারা এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কারিগরি শিক্ষায় ৫৪ শতাংশ এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। যখন আমরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কথা বলছি, তখন এটি আমাদের জন্য ভালো খবর নয়।’

ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র‍্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র‍্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন।

‎অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ অনেকে।

‎‎শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া টাকার অপচয় সহ্য করা হবে না বলে সতর্ক করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২০০১ সালে আমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং এই সব প্রকল্প সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা ছিল। পূর্ববর্তী সরকার প্রচুর ঋণ এবং অনুদান নিয়েছিল কিন্তু তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়নি।’

‎শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যে, আমাদের বিভাগে কোনো অপচয় বা অব্যবস্থাপনা বরদাশত করা হবে না। তাই আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে, যা আমাদের সচিব বারবার বলছেন যে, শিক্ষা খাতে এই অর্থ আমরা কীভাবে বিনিয়োগ করব সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি পয়সা সঠিকভাবে ব্যয়ের মাধ্যমে আমাদের খরচ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

‎দেশে মানসম্মত শিক্ষার ‘সত্যিই প্রয়োজন’ বলে তুলে ধরে মন্ত্রী মিলন বলেন, ‘সম্ভবত আমরা মানসম্মত শিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছি। আমি বিশ্বাস করি, সরকারের একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করা উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। কিন্তু আমরা এখানে সহায়ক হিসেবে কাজ করছি যাতে তারা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এই বছর আমাদের জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করেছেন এবং এটি একটি বড় অঙ্কের অর্থ। এছাড়াও তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে এটি জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করবেন। ‎এক্ষেত্রে শিক্ষকদের যোগ্যতা এবং প্রশিক্ষণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি, আমরা এই অর্থ সঠিকভাবে বিনিয়োগ করব।’

‎দেশের শিক্ষাখাত নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমার অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানে এই অফিসে আসার পর আমার মনে হচ্ছে যেন আমি পেছনের আয়না দেখে রিভার্স গিয়ারে গাড়ি চালাচ্ছি। ২০০১-২০০৬ সালের সময়কালে আমরা যেখানে শিক্ষা ব্যবস্থাকে রেখে গিয়েছিলাম, আমি এই মন্ত্রণালয়ে ফিরে এসে নিজেকে তার চেয়ে অনেক পিছিয়ে আবিষ্কার করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপিল বিভাগ যে মামলাটি নিষ্পত্তি করেছে তা ২০১৭ সালে দায়ের করা হয়েছিল। এই মামলার সমাধানের জন্য আমাদের অনেক বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। আমি জানি না কেন সরকার এই মামলাগুলো সমাধানের ব্যাপারে সিরিয়াস ছিল না।’

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়