শিরোনাম
◈ ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব কমছে, বাড়ছে ভারতের উপস্থিতি ◈ সব সূচকে রেকর্ড, জিরো ওয়েটিং টাইমে ফিরেছে চট্টগ্রাম বন্দর ◈ জাপানের সঙ্গে গভীর হচ্ছে সম্পর্ক, বাড়ছে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা সহযোগিতা ◈ বাংলাদেশি কার্গোর বাজার ধরতে সমুদ্র বন্দরের ৪৯ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করছে আদানি ◈ হৃদয়কে অধিনায়ক, জিম্বাবু‌য়ের বিরু‌দ্ধে ১৫ জ‌নের বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা ◈ বিশ্বকা‌পে ব্যর্থতার দায় স্বীকার ক‌রে নেদারল্যান্ডসের কোচের পদ থেকে ইস্তফা কোম্যানের, নতুন কোচ হ‌তে পা‌রেন আর্নে স্লট ◈ রাজধানী ঘিরে সড়ক ও নৌপথে নতুন পরিকল্পনা, অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রধানমন্ত্রীর ◈ বাংলা‌দে‌শের স‌ঙ্গে চীনের লাইফলাইন কানেকশন, ভারতের চাণক্য বুমেরাং, ইস্ট লুকে আশা সাইবারে হতাশ ◈ এমবাপের বিশ্বরেকর্ড, ফ্রান্সের যত কীর্তি ◈ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি, থাকছে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও লাইভ নজরদারি

প্রকাশিত : ০২ জুলাই, ২০২৬, ০১:২৩ রাত
আপডেট : ০২ জুলাই, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা ও পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে বিচার সম্পন্ন করতে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বর্তমানে নতুন কোনো অগ্রগতি নেই, তবে পুরো বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

শেখ হাসিনা অবশ্যই একজন আসামি, যিনি অপরাধ করে অন্য দেশে অবস্থান করছেন এবং যার বিচার হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তাকে আমরা দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মাটিতে সেই বিচার সম্পন্ন করতে চাই।

বাংলাদেশের জনগণও সেটাই চায়। সেই লক্ষ্যেই কাজ চলছে।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বলেছেন—এ বিষয়ে বাংলাদেশ ১০টি দেশের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে।

যেসব দেশে অর্থ পাচার হয়েছে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর আওতায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অর্থ ফেরানোর উদ্যোগ চলছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, এটি রাতারাতি সম্পন্ন হওয়ার মতো বিষয় নয়। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি ও চলমান আলোচনার মাধ্যমে আমরা একধাপ এগিয়েছি। জনগণের পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবসময়ই ইতিবাচক ছিল। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে তারা আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর আমরা আশা করছি, চীনা বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন নতুন বিনিয়োগ বাংলাদেশে আসবে।

চীনের প্রস্তাবিত ‘টু প্লাস টু’ সংলাপ এবং অর্থনৈতিক করিডোর প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় দেশের জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত হবে। যদি আমরা দেখি, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য উপকারী এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাহলে অবশ্যই তা বিবেচনা করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ‘টু প্লাস টু’ সংলাপের প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্টের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং সরকার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নিয়ে চীনের মন্তব্য—‘এই সম্পর্ক নিয়ে তৃতীয় কোনো পক্ষের মাথা ঘামানোর সুযোগ নেই’। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের সঙ্গে স্বতন্ত্র ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে যেমন আমাদের সম্পর্ক থাকবে, তেমনি অন্যান্য দেশের সঙ্গেও থাকবে। আমরা মনে করি না, এক দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হলে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হবে। সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেই বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।

তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে
তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সমীক্ষার কাজ এখনও চলমান রয়েছে এবং তা শেষ হয়নি।

তিনি জানান, সমীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে চীন সম্মত হয়েছে। শুধু তিস্তা নয়, বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনার অন্যান্য ক্ষেত্রেও সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় সহযোগিতা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফিজিবিলিটি স্টাডি এখনও শেষ হয়নি, এটি শুরু হয়েছে। আগে যেখানে কাজ থেমে ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর সেখান থেকেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়