শিরোনাম
◈ শেখ হাসিনার আত্মীয় বলায় যা বললেন আন্দালিভ রহমান পার্থ (ভিডিও) ◈ রাষ্ট্রপতির ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত, নতুন সূচি হতে পারে ১-২ দিনের মধ্যে ◈ চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ, খসড়া চুক্তি প্রস্তুত ◈ একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৭ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ ◈ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন: আইনমন্ত্রী (ভিডিও) ◈ ব্রাজিল ম্যাচের জন্য টাকা খরচ করতে চায় না সরকার: আমিনুল হক (ভিডিও) ◈ হামের উপসর্গে একদিনে আরও ৫ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৯৪৩ ◈ কাউকে বন্ধ বা থামিয়ে রাখার মানসিকতা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী ◈ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ৩ বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ ◈ পাথরঘাটায় ট্রলারডুবি: ২২ ঘণ্টা পর ৫ জেলের লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত : ০১ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০৫ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভূত কি সত্যিই আছে? কী বলছে আধুনিক বিজ্ঞান

আমার তিন বছরের কন্যা ভূত নিয়ে একরকম অবসেসড। প্রতি রাতে সে ভূতের গল্প শুনে ঘুমায়। রূপকথা বা কাল্পনিক রহস্যময় গল্প হিসেবে ভূতের গল্প মন্দ নয়। মুভি, সিরিজ কিংবা নাটকে হরর অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি জনরা। তবে অনেকেই দাবি করেন, তাঁরা অদ্ভুত কিছু দেখেছেন বা অনুভব করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এগুলো কি সত্যিই ভূত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যাখ্যা আছে?

বিজ্ঞান কী বলছে

বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, ভূতের অস্তিত্বের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। বছরের পর বছর অসংখ্য গোস্ট হান্টিং বা কথিত ভূত অনুসন্ধানের দাবি করা হলেও এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়েছে।

তাহলে প্রশ্ন ওঠে, মানুষ কেন ভূত দেখার দাবি করে? এর পেছনে কয়েকটি কারণ আছে। চলুন সেগুলো আলোচনা করা যাক।

১. মস্তিষ্কের ভুল ব্যাখ্যা

অনেক সময় আমরা অজানা বা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা দেখলে সেটিকে ভূত বলে ধরে নিই। যেমন ছায়া, শব্দ, অন্ধকারে কিছু নড়ে ওঠা, প্রতিচ্ছবি কিংবা দরজা নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া। এসবের অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনা হলেও আমাদের মনে রহস্যের অনুভূতি তৈরি করে।

২. স্লিপ প্যারালাইসিস

এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে ঘুম ও জাগরণের মাঝামাঝি সময়ে মানুষ নড়াচড়া করতে পারে না এবং ঘরে কারও উপস্থিতি অনুভব করে। অনেকের মনে হয়, কোনো অশরীরী সত্তা তাঁর বুকের ওপর চেপে বসেছে। এতে দম বন্ধ হওয়ার মতো অনুভূতি হয়। অনেকে এই অভিজ্ঞতাকেই ভূত দেখা বলে মনে করেন।

৩. মানসিক ও পরিবেশগত কারণ

ভয়, অন্ধকার, একা থাকা, অজানা শব্দ—এসব আমাদের মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করে অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার সৃষ্টি করতে পারে।

অনেকের মনে হয়, কোনো অশরীরী সত্তা তাঁর বুকের ওপর চেপে বসেছে। এতে দম বন্ধ হওয়ার মতো অনুভূতি হয়। অনেকে এই অভিজ্ঞতাকেই ভূত দেখা বলে মনে করেন।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কিছু প্রশ্ন

ভূত সম্পর্কিত ধারণাগুলোর মধ্যেই অনেক অসঙ্গতি রয়েছে। যেমন, ভূত যদি দেয়ালের ভেতর দিয়ে যেতে পারে, তাহলে কীভাবে জিনিসপত্র সরায়? ভূত যদি কোনো শক্তি হয়, তাহলে সেই শক্তি কোথা থেকে আসে? এই প্রশ্নগুলোর কোনো যৌক্তিক, বৈজ্ঞানিক উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

ভূত ধরার যন্ত্র কি সত্যিই কাজ করে

অনেকেই ভূতের অস্তিত্বের প্রমাণ খুঁজতে ইএমএফ মিটার, ইনফ্রারেড ক্যামেরা ইত্যাদি ব্যবহার করেন। তবে এসব যন্ত্র আসলে বৈদ্যুতিক বা চৌম্বকীয় ক্ষেত্র, তাপমাত্রা কিংবা পরিবেশগত পরিবর্তন পরিমাপ করে। এখন পর্যন্ত কোনো যন্ত্রই ভূত শনাক্ত করতে পেরেছে, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তাহলে মানুষ ভূত বিশ্বাস করে কেন

মানুষ অনেক সময় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি, লোককাহিনি কিংবা অজানাকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টার কারণে ভূতে বিশ্বাস করে। আবার কেউ কেউ নিজেকে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে বা অন্যের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে কল্পনার রং মিশিয়ে বাস্তব (!) ভূতের গল্প বলেন।

এ ছাড়া প্রাগৈতিহাসিককাল থেকেই মানুষ এমন অনেক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে, যেগুলোর ব্যাখ্যা সে তখনকার জ্ঞান দিয়ে দিতে পারেনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে ভূতের বিশ্বাস গেঁথে বসেছে।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

  • সর্বশেষ