সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ-সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ বলেছেন, সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারলে বর্তমান সরকারেরও বিগত সরকারের মতো করুণ পরিণতি হতে পারে। চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি ও টেন্ডারবাজি করে যদি দেশ চালাতে চাই, তবে পরিণতি কী হবে-এটা ভেবে দেখা দরকার। তাদের (বিগত সরকারের) তো যাওয়ার জায়গা আছে, কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। এজন্য আমি মনে করি যে, আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সরকারি দল ও বিরোধীদল মিলেই একটা সরকার। আমাদের সরকারি বন্ধুরা প্রায়ই অসহিষ্ণু হন। তারা বলেন যে, বিরোধীদলীয় নেতারা এই কথা বলেন, ওই কথা বলেন। একটা বাজেট পেশ করা হয়েছে, এই বাজেটের ওপর আলোচনা হবে; তারপর সবাই মিলে আমরা একটা পূর্ণাঙ্গ বাজেট করব। সেই বাজেটটা সবাই মিলে বাস্তবায়ন করব-এটাই তো হওয়া উচিত। তা না করে যা পেশ করা হবে, শুধু তারই গুণগান গাইব তাহলে তো হলো না।
জাতীয় সংসদে বুধবার প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ইজ্জত উল্লাহ বলেন, আমরা ঋণ করি প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা। আমরা উন্নয়ন বাজেট করছি, এতে আমাদের কী অবস্থা সৃষ্টি হবে একটা সময়ে। আওয়ামী লীগ তো ১৫ বছরের মাথায় এসে ঋণ ৩০ লাখ কোটিতে নিয়ে গেল; আমরাও যদি এ রকম ১৫ বছরের মাথায় গিয়ে ৬০ লাখ কোটি টাকা হয়ে যায়, তখন আমাদের অবস্থাটা কী হবে, কীভাবে আমাদের দেশটা চলবে।
দেশের ব্যাংকিং খাতের সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার ওপর খেলাপি ঋণ রেখে ব্যাংক আমাদের কীভাবে ঋণ দেবে। ব্যাংক ঋণ দিতে না পারলে সরকার টাকা ছাপাবে, যা মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে। এই ঋণ করে ঘি-ভাত খাওয়ার মতো অবস্থা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে।