শিরোনাম
◈ একদিনের ব্যবধানে আবারও কমল স্বর্ণের দাম ◈ পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা পাওয়ার হিটিং শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে   ◈ শেখ হাসিনার পতনের পর প্রথমবার ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে ২০টি ট্রেনের কোচ ◈ ভেনেজুয়েলার পর ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান ◈ ভেনেজুয়েলায় ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই শক্তিশালী ভূমিকম্প, ১ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা! ◈ হাইতির বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে নকআউটে মরক্কো ◈ ঢাকার কাছে ভূমিকম্পের উৎস, বড় ঝুঁকির আশঙ্কা কতটুকু? ◈ পর্যটক ও বাসিন্দাদের জন্য ‘সিভিলিটি গাইডবুক’ আনছে দুবাই ◈ লাল কার্ডের পর এবার ৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ কাতারের মিডফিল্ডার ◈ এবার মাজারের অর্থ নিয়ে ডিসি সারওয়ারের কল রেকর্ড ভাইরাল

প্রকাশিত : ২৫ জুন, ২০২৬, ১০:১৯ দুপুর
আপডেট : ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:০১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দক্ষিণ ইতালির উন্নয়নে ড. ইউনূসকে পাশে চায় নেপলস

ইতালির নেপলস থেকে ফোকাস (FOQUS) ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট মিসেস রাকেলে ফুরফারো এবং ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার রেনাতো কোয়াগলিয়া ঢাকাস্থ ইউনূস সেন্টারে এসে প্রফেসর মুহাম্মদ ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

সাক্ষাৎকালে তারা এসব সমস্যা সমাধানে নিজেদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তবে সীমিত সাফল্য পাওয়ায়, আরও কার্যকর ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে তারা প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্ব এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রত্যাশা করেন।

বৈঠকে দক্ষিণ ইতালির তিনটি শহর—নেপলস, পালের্মো ও পোটেনজায় দারিদ্র্য, শিক্ষার নিম্নমান, আবাসন সংকট এবং অভিবাসীদের নানা সমস্যা মোকাবিলায় একটি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে প্রফেসর ইউনূসের সহায়তা কামনা করতেই তারা ঢাকায় এসেছেন বলে জানান।

এসময় দক্ষিণ ইতালির ঝুঁকিপূর্ণ ও পিছিয়ে থাকা শহরাঞ্চলের পুনরুজ্জীবনে শিক্ষা, সামাজিক উদ্যোগ (সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ) এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্ভাবন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফোকাস (FOQUS) ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করেন।

নেপলসভিত্তিক ইতালীয় প্রতিষ্ঠান ফোকাস ফাউন্ডেশন শিক্ষা, জনকল্যাণমূলক কাজ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, সংস্কৃতি এবং সামাজিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে নগর পুনরুজ্জীবনে কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি নেপলসের কোয়ার্তিয়েরি স্পানিওলি (Quartieri Spagnoli) এলাকায় কার্যক্রম শুরু করে। ফাউন্ডেশনটি প্রারম্ভিক শিশুশিক্ষা, সাংস্কৃতিক পর্যটন, ক্যাটারিং, হস্তশিল্প উৎপাদন, প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্তি এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সেবামূলক খাতে সামাজিক ব্যবসা ও সামাজিক উদ্যোগগুলোকে সহায়তা প্রদান করে।

বর্তমানে ফোকাস তাদের এই মডেলটি দক্ষিণ ইতালির অন্যান্য অঞ্চল, বিশেষ করে পালের্মো ও পোটেনজায় সম্প্রসারণ ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটে গড়ে তুলতে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য হলো এমন স্বনির্ভর স্থানীয় উদ্যোগ গড়ে তোলা, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করবে এবং বাস্তবভিত্তিক ও জনগণনির্ভর সমাধানের মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্যের মোকাবিলা করবে।

তাদের মতে, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও অগ্রগতি তুলনামূলকভাবে ধীর হওয়ায় সমস্যাগুলোর সমাধানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে আরও অভিজ্ঞ ও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণেই তারা ঢাকায় এসে প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন, যাতে নেপলস, পালের্মো ও পোটেনজার সমস্যাগুলোর সমাধানের পাশাপাশি বৃহত্তর দক্ষিণ ইতালি অঞ্চলের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।

আলোচনায় নেপলস, পালের্মো ও পোটেনজায় প্রফেসর ইউনূসের সামাজিক ব্যবসা (সোশ্যাল বিজনেস) মডেল প্রয়োগের সম্ভাবনা বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রতিনিধিদলটি ইউনূস সেন্টার ও ফোকাস (FOQUS) ফাউন্ডেশনের মধ্যে সহযোগিতার একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করে, যার অংশ হিসেবে একটি মেডিটেরেনিয়ান সোশ্যাল ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রটি প্রফেসর ইউনূসের ‘তিন শূন্যের পৃথিবী’ (শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণ, সম্পদের কেন্দ্রীভবন রোধের মাধ্যমে দারিদ্র্যের অবসান এবং সবার মধ্যে উদ্যোক্তার বিকাশ ঘটিয়ে শূন্য বেকারত্ব অর্জন) দর্শনের ভিত্তিতে কাজ করবে। এই কেন্দ্র শিক্ষা, সামাজিক উদ্ভাবন, সামাজিক ব্যবসা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের একটি আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। 

ফোকাস (FOQUS) ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদল প্রফেসর ইউনূসকে যত দ্রুত সম্ভব দক্ষিণ ইতালি সফরের আমন্ত্রণ জানান। তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সফরকালে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়ন করবেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবেন।

প্রফেসর ইউনূস প্রতিনিধিদলকে তাদের চাওয়া সহযোগিতার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে তাঁর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। পাশাপাশি তিনি দক্ষিণ ইতালি সফরের পরিকল্পনা ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নেতা, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ এবং সামাজিক কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে সম্ভাব্য কর্মপন্থা নির্ধারণে ইতিবাচক সাড়া দেন। 

সূত্র: ইত্তেফাক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়