শিরোনাম

প্রকাশিত : ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ০৪:২২ দুপুর
আপডেট : ২২ এপ্রিল, ২০২৪, ০৪:২২ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২ হাজার কোটি টাকা পাচার মামলায় ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

এম.এ. লতিফ: [২] সোমবার (২২ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আস সামছ জগলুল হোসেন ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ৪৬ আসামির বিরুদ্ধে সিআইডির দেয়া সম্পূরক চার্জশিট গ্রহণ করেন।

[৩] এদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হাসান রুবেল ও এ এইচএম ফুয়াদ কারাগারে আছেন, এ দিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা ঢাকা টাইমসের সম্পাদক মোহাম্মাদ আরিফুর রহমান ওরফে দোলনসহ সাত আসামি আদালতে হাজিরা দেন। অপর ৩৬ জন পলাতক থাকায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারী করেন এবং আগামী ৩০ মে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য তারিখ ধার্য করেন।

[৪] সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল ‘আমাদের নতুন সময়’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

[৫] ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২২ জুন, ২০২২ দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও তার ভাই ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। এদিন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

[৬] এর আগে, ৩ মার্চ, ২০২১ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এ. এস. পি. উত্তম কুমার সাহা ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। গত বছর ১ সেপ্টেম্বর মামলাটি চার্জগঠন বিষয়ে শুনানির জন্য ছিল। কিন্তু সেদিন মামলাটিতে কিছু অসঙ্গতি দেখতে পাওয়ায় আদালত স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে সিআইডিকে পুনরায় মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। এদিন সেই নির্দেশনা মেনে নতুন করে আরও ৩৬ জনকে আসামি করে মোট ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় সিআইডি।

[৭] রুবেল-বরকত ছাড়াও উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের এপিএস সত্যজিৎ মুখার্জী, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী, শহর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসিবুর রহমান ফারহান,  এএইচএম ফুয়াদ, ফাহাদ বিন ওয়াজেদ ওরফে ফাহিম, কামরুল হাসান ডেভিড, মুহাম্মদ আলি মিনার ও তারিকুল ইসলাম ওরফে নাসিম। সম্পূরক চার্জশিটের নতুন আসামিরা হলেন-নিশান মাহমুদ ওরফে শামীম, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. সিদ্দিকুর রহমান ওরফে সিদ্দিক, মো. সাইফুল ইসলাম জীবন, অ্যাডভোকেট অনিমেশ রায়, শামসুল আলম চৌধুরী, দীপক কুমার মজুমদার, শেখ মাহতাব আলী, সত্যজিৎ মুখার্জি, মো. শহীদুল ইসলাম ওরফে মজনু, ফকির মো. বেলায়েত হোসেন, গোলাম মো. নাছিম, মো. জামাল আহমেদ ওরফে জামাল, বেলায়েত হোসেন মোল্লা, মো. আফজাল হোসেন খান ওরফে শিপলু, অমিতাভ বোস, চৌধুরী মো. হাসান, মো. জাফর ইকবাল ওরফে হারুন মন্ডল, বরকতের স্ত্রী আফরোজা আক্তার পারভীন, রুবেলের স্ত্রী সোহেলী ইমরুজ পুনুম, সাহেব সারোয়ার, আমজাদ হোসেন বাবু, স্বপন কুমার পাল, অ্যাডভোকেট জাহিদ বেপারী, খলিফা জামাল, হাফিজুল হোসেন তপন, রিয়াজ আহমেদ শান্ত, আনোয়ার হোসেন আবু ফকির, মো. মনিরুজ্জামান মামুন, মাহফুজুর রহমান, সুমন সাহা, মো. আব্দুল জলিল শেখ, মো. রফিক মন্ডল, খন্দকার শাহীন আহমেদ ওরফে পান শাহীন, আফজাল হোসেন খান ও সাংবাদিক মোহাম্মাদ আরিফুর রহমান ওরফে দোলন।

[৮] উল্লেখ্য, ২ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ২৬ জুন, ২০২০ বরকত ও রুবেলের বিরুদ্ধে রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করে সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ।

[৯] মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১০ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত ফরিদপুরের এলজিইডি, বিআরটিএ, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি বিভাগের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের মালিক হন বরকত ও রুবেল। তারা মাদক ব্যবসা এবং ভূমি দখল করে অবৈধ সম্পদ করেছেন, এসি ও নন-এসিসহ ২৩টি বাস, ড্রাম ট্রাক, বোল্ডার ও পাজেরো গাড়ির মালিক হয়েছেন এবং সেই সাথে ২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন।

[১০] এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রথম জীবনে দুই ভাই রাজবাড়ীর এক বিএনপি নেতার সঙ্গী ছিলেন। তখন তাদের সম্পদ বলতে কিছুই ছিল না। ২০ নভেম্বর, ১৯৯৪ ওই এলাকার এক আইনজীবী হত্যা মামলার আসামি ছিলেন বরকত ও রুবেল। সম্পাদনা: সমর চক্রবর্তী

প্রতিনিধি/এসসি/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়