সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই বাবা-মায়ের প্রধান টার্গেট। কিন্তু এমন অনেক সন্তান আছে, যারা বাবা মায়ের অবাধ্য; তাদেরকে সামান্য ইতিবাচক কথা বললেই বদলে যেতে পারে তাদের ভাবনাচিন্তা।
একটা বয়সে বেশিরভাগ শিশুই বদমেজাজি বা দুরন্ত হয়ে ওঠে, তখন তাদের সামলানো বাবা-মায়ের জন্য কঠিন হয়ে যায়। এমন বয়সে বকনি দিলে শুধরানোর বদলে বাবা-মাকেই মারতে আসে।
ছোটরা আশপাশের পরিবেশ থেকেই শিক্ষা নেয়। ভালো জিনিস শেখার পাশাপাশি খারাপ অভ্যাসও তৈরি হয়। শাসন না করে স্রেফ ভালোবাসায় সন্তানকে সুশিক্ষা দেওয়া সম্ভব হয় না। তার ভালো ভবিষ্যতের কথা ভেবেই অভিভাবকদের বকাবকি করতেই হয়। কিন্তু বাবা-মায়েরা যখনই বকেন, তা যতই ভালোর জন্য হোক না কেন, সন্তানের কাছে সাধারণত গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয় না।
বাবা-মায়ের পক্ষ থেকে শিশুকে বলা ইতিবাচক ও নেতিবাচক কথার অনুপাত হতে হবে ৫:১। যদি শিশুটিকে একটি তিরস্কারমূলক কথা বলা হয়, তবে খেয়াল রাখতে হবে তাকে যেন ৫টি পজিটিভ কথাও বলা হয়। এতে তার মনে রাগের বদলে, বাবা-মায়ের কথা বুঝতে চাওয়ার ইচ্ছে তৈরি হবে।
সে অনুভব করবে যে, বাবা-মায়ের কাছে সে মূল্যবান। তার ভালো কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে বড়দের কাছে। আপনা থেকেই তার মধ্যে প্রশংসা লাভের ইচ্ছে বাড়বে। ফলে বাবা-মায়ের বারণও সে মনে রাখবে। চেষ্টা করবে ভালো কাজের সংখ্যা বাড়ানোর, যাতে আগামীতে আরও প্রশংসা জোটে।
সত্যিই এমনটা জীবনে সব সময় হয়ে ওঠে না। সারাদিন শাসন করার মতো যত ঘটনা ঘটে, প্রশংসা করার মতো কি আর তত ঘটে? না, কিন্তু মনোবিদরা বলছেন, এমন ক্ষেত্রে প্রশংসার বস্তু খুঁজে নিতে হবে অভিভাবককেই। শিশুটি যদি নিজের জিনিস গুছিয়ে রাখে, অপছন্দের সবজিও সোনামুখ করে খেয়ে নেয়, ফোন স্ক্রোল না করে পড়াশুনায় মন দেয়, তবে তাকে তারিফ করুন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিন, অথবা পছন্দের খাবার রান্না করে খাওয়ান। আরও বড় কোনও ভালো কাজ করলে, সপ্তাহান্তে ঘুরতে নিয়ে যান।
সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে গিয়ে কখন যেন প্রশংসাসূচক কথা বলতে ভুলেই যান বেশিরভাগ অভিভাবক। অথচ এই সামান্য ইতিবাচক কথাতেই বদলে যেতে পারে সন্তানের ভাবনাচিন্তার ধরন, জীবনের মান।