অনেকেই কোলবালিশ জড়িয়ে ঘুমান। কেউ অভ্যাসবশত আবার কেউ আরামদায়ক ঘুমের জন্য কোলবালিশ নিয়ে ঘুমাতে ভালোবাসেন। এটি কি ভালো অভ্যাস? বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে কোলবালিশ ব্যবহার করলে শরীরের ভঙ্গি ঠিক থাকে। মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমে এবং ঘুমের মান উন্নত হয়।
কোলবালিশ জড়িয়ে ঘুমানোর উপকারিতা
মেরুদণ্ডের সঠিক অবস্থান বজায় থাকে
পাশ ফিরে ঘুমানোর সময় হাঁটু ও কোমরের মাঝখানে কোলবালিশ থাকলে শরীর তুলনামূলক নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকে। এতে কোমর, নিতম্ব ও মেরুদণ্ডের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে। সকালে ব্যথা বা অস্বস্তি কম অনুভূত হতে পারে।
কোমর ও নিতম্বের চাপ কমায়
যাদের দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে হয় বা কোমরে হালকা ব্যথা থাকে, তাদের ক্ষেত্রে কোলবালিশ পা দুটির মধ্যে যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে নিতম্বের জোড়ায় চাপ কম পড়ে। ঘুম আরামদায়ক হয়।
কাঁধ ও হাতের জন্য
লম্বা কোলবালিশ বুকে জড়িয়ে ঘুমালে ওপরের হাত ও কাঁধের ওজন কিছুটা বালিশ বহন করে। এতে কাঁধে টান কম অনুভূত হয় এবং পাশ ফিরে ঘুমানো সহজ হয়।
গর্ভাবস্থায় আরাম
গর্ভাবস্থায় বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে পাশ ফিরে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় কোলবালিশ বা প্রেগন্যান্সি পিলো পেট, কোমর ও হাঁটুর ভারসাম্য রক্ষা করে এবং আরামে ঘুমাতে সাহায্য করে।
বার বার কাত বদলানোর প্রবণতা কমে
অনেকের ক্ষেত্রে কোলবালিশ শরীরকে একটি স্থিতিশীল ভঙ্গিতে রাখতে সাহায্য করে। ফলে ঘুমের মধ্যে অযথা বেশি নড়াচড়া কম হয়। ঘুম কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়। তবে এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সীমিত।
যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
• বালিশটি খুব নরম বা অতিরিক্ত শক্ত হওয়া উচিত নয়।
• এমন দৈর্ঘ্যের বালিশ বেছে নিন, যা বুক থেকে হাঁটু পর্যন্ত সাপোর্ট দিতে পারে।
• নিয়মিত কভার ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন।
• যদি দীর্ঘদিনের তীব্র ঘাড়, পিঠ বা কোমরের ব্যথা থাকে, শুধু কোলবালিশের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সূত্র: হেলথলাইন