শিরোনাম
◈ ব্যাংকিং খাতে চাপ বাড়ছে, খেলাপি ঋণের অ্যাকাউন্ট ৪৫.৮৩ লাখ ◈ লঘুচাপের প্রভাবে টানা ৫ দিন বৃষ্টি, সতর্কতা বন্দরে ◈ শোককে পুঁজি করে বাণিজ্য! লাশ কাটতে ১০ হাজার টাকা, না দিলে ‘সেলাই করব না’: সোহরাওয়ার্দী মর্গে অনিয়মের অভিযোগ ◈ যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য নতুন নির্দেশনা, দেখাতে হবে আর্থিক সক্ষমতা ◈ ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর রাহুলের হুঁশিয়ারি: ‘এবার এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে’ ◈ বিপদ থেকে বাঁচলে ‘জানের বদলে জান’ মানত করা কি জায়েজ? জানুন ইসলামের বিধান ◈ ঢাকা বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ড, বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়নি ◈ প্রথমবার ইরানে হামলা চালিয়েছে বাহরাইন ও কুয়েত ◈ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি: সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ ◈ টানা বর্ষণে সবজির জোগান কম, বাজারে বেড়েছে ডিম ও মাছের দামও, কেজিতে বেড়েছে ৩০-৪০ টাকা

প্রকাশিত : ২৫ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২৯ রাত
আপডেট : ২৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অফিসের কাছে নাকি দূরে? ঢাকায় বাসা ভাড়ার সিদ্ধান্ত নেবেন যেভাবে

ঢাকার জীবনযাত্রায় বাসা খোঁজা মানেই এক জটিল অংক কষা। বাসা খোঁজার সময় সিংহভাগ মানুষের সামনে দুটি বড় প্রশ্ন তৈরি হয়— অফিসের কাছে বেশি ভাড়ায় ছোট বাসা নেওয়া ভালো, নাকি একটু দূরে কম ভাড়ায় বড় ও আরামদায়ক বাসায় ওঠা বুদ্ধিমানের কাজ? 

প্রথম দেখায় হিসাবটা বেশ সরল মনে হতে পারে। দূরে থাকলে মাসে হয়তো ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা বাঁচছে, ঘরটাও পাওয়া যাচ্ছে বড়। কিন্তু মাস দেড়েক যাওয়ার পর শুরু হয় অপ্রকাশিত হিসাব-নিকাশ। প্রতিদিনের বাস-রিকশা কিংবা রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া, আর যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার ক্লান্তি— সব মিলিয়ে কম ভাড়ার বাসাটি কি শেষ পর্যন্ত সত্যিই ‘কম খরচের’ থাকে?

ঢাকার বাস্তবতা বলছে, শুধু বাসা ভাড়ার রসিদ দেখে সিদ্ধান্ত নিলে হিসাব মিলবে না। আপনার জন্য কোনটি লাভজনক, তা বুঝতে কয়েকটি বাস্তব বিষয় খতিয়ে দেখা জরুরি।

সাশ্রয়ের টাকা কি যাতায়াতেই চলে যাচ্ছে?

ধরা যাক, অফিসের কাছের একটি বাসার ভাড়া ২০ হাজার টাকা। আর আধা ঘণ্টা দূরের এলাকাতে একই মানের বাসা পাওয়া গেল ১৫ হাজার টাকায়। দৃশ্যত মাসে ৫ হাজার টাকা বাঁচছে। কিন্তু আপনি যদি ঢাকার প্রতিদিনের যাতায়াত খরচ যোগ করেন— বাস, রিকশা বা সিএনজি মিলিয়ে প্রতিদিন ২০০-২৫০ টাকা গেলে ২২ কর্মদিবসে ব্যয় ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকায় গিয়ে ঠেকবে। মাঝেমধ্যে ভিড় এড়াতে বা তাড়াহুড়ায় রাইড শেয়ারিং নিলে ওই বেঁচে যাওয়া টাকা পুরোটাই যাতায়াতের পেছনে চলে যায়। 

দূরত্বের মানদণ্ড কিলোমিটারে নয়, ‘সময়ে’

অফিস থেকে বাসার দূরত্ব মাত্র ৭ বা ৮ কিলোমিটার; কাগজে-কলমে এটি খুব বেশি মনে না হলেও ঢাকায় এই পথ পাড়ি দিতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টাও লেগে যেতে পারে। ছুটির দিনে যে পথ পার হতে ১৫ মিনিট লাগে, কর্মদিবসের সকালে তা নরকযন্ত্রণা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই বাসা চূড়ান্ত করার আগে অফিসের ব্যস্ত সময়ে অন্তত এক দিন ওই পথ ধরে যাতায়াত করে গতিপ্রকৃতি দেখে নেওয়া উচিত।

মূল সড়ক বনাম ‘গলির ভেতরের’ হিসাব

অনেকেই বাসার মূল এলাকার নাম দেখে যাতায়াত সহজ ভেবে নেন। কিন্তু বাসাটি যদি মেন রোড থেকে অনেক ভেতরে হয়, তবে প্রতিদিন বাস ধরতে বা রিকশা পেতে বাড়তি সময় ও অর্থ গুণতে হয়। সকালে মূল সড়কে যেতে ৫০ টাকা আর রাতে ফিরতে ৫০ টাকা রিকশা ভাড়া দিলে মাসে শুধু এই গলি পারাপারেই প্রায় আড়াই হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়।

পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতিদিনের পথ

শুধু আপনার অফিসের দূরত্ব কমলেই কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়া শেষ হয় না। পরিবারের অন্য সদস্যদের কর্মস্থল, সন্তানের স্কুল কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কোন দিকে— সেটি বড় বিবেচ্য। একজনের আধা ঘণ্টা বাঁচাতে গিয়ে পরিবারের অন্য দুই সদস্যকে যদি প্রতিদিন তিন ঘণ্টা যানজটে কাটাতে হয়, তবে সেই বাসা পরিবারের সামগ্রিক স্বস্তির কারণ হবে না। তাই সবার গন্তব্যের মাঝামাঝি ও যাতায়াত বান্ধব স্থান বেছে নেওয়াই শ্রেয়।

ফিরতি পথের গণপরিবহন ও রাতের নিরাপত্তা 

সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় গাড়ি বা বাস সহজে পাওয়া গেলেও রাতে ফেরার চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে যাদের অফিস থেকে বের হতে হতে দেরি হয়, তাদের ফিরতি পথে গণপরিবহন পাওয়া চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। নিয়মিত বিকল্প হিসেবে ট্যাক্সি বা সিএনজির ওপর নির্ভর করতে হলে কম ভাড়ার লাভটুকু খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। আবার রাতের ঢাকার চিত্র দিনের থেকে আলাদা। ছিনতাইকারী, পকেটমার থেকে শুরু করে নানা অনিরাপত্তা লুকিয়ে থাকে পথে পথে।   

নিজের অমূল্য ‘সময়ের’ দাম কত?

প্রতিদিন যাতায়াতে যদি তিন ঘণ্টা চলে যায়, তবে মাসে গড়ে ৯০ ঘণ্টা কেবল রাস্তায় কাটছে। এতে বেঁচে যাওয়া কয়েক হাজার টাকার চেয়েও বড় ক্ষতি হচ্ছে আপনার স্বাস্থ্য, ঘুম, পরিবারকে দেওয়ার সময় এবং মানসিক শান্তির। কাজের ব্যস্ততা থাকলে দীর্ঘ ভ্রমণ কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই নিজের বিশ্রামের সময়কেও আর্থিক মূল্যের সঙ্গে মেপে দেখা দরকার।

অফিসের পরিবহন সুবিধা ও রিমোট ওয়ার্ক

আপনার প্রতিষ্ঠানে যদি স্টাফ বাস সুবিধা থাকে, তবে দূরত্বের হিসাব কিছুটা শিথিল করা যায়। গাড়ির রুট ও স্টপেজের কাছাকাছি বাসা পেলে দূরের এলাকাতেও শান্তিতে থাকা সম্ভব। আবার যারা সপ্তাহে মাত্র ১ বা ২ দিন অফিসে যান এবং বাকি দিনগুলো বাসা থেকে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে অফিসের কাছাকাছি দামি বাসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত খুব একটা যুক্তিযুক্ত নয়।

সিদ্ধান্ত নেবেন কীভাবে? 

সিদ্ধান্ত নেওয়ার সবচেয়ে বৈজ্ঞানিক উপায় হলো একটি কাগজে দুটি কলাম বানিয়ে এক মাসের তুলনামূলক সম্ভাব্য মোট খরচ লিখে ফেলা। 

যদি দেখেন দুটো হিসাবের চূড়ান্ত পার্থক্যে অফিসের কাছের বাসায় ৩ হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে, কিন্তু প্রতি মাসে আপনার প্রায় ৫০-৬০ ঘণ্টা সময় ও শারীরিক শক্তি বাঁচছে— তবে অফিসের কাছের বাসাই আপনার জন্য সেরা হবে। আর যদি খরচের ব্যবধান অনেক বেশি হয় এবং যাতায়াতও তুলনামূলক সুগম থাকে, তবে সাশ্রয়ী বাসাই বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ঢাকায় বাসা ভাড়া মানে কেবল বাড়িওয়ালাকে দেওয়া টাকার অঙ্ক নয়; এটি সময়, স্বাস্থ্য ও যাতায়াত খরচের সমন্বিত এক সমীকরণ!

সূত্র: সময়ের আলো

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়