ডিম খাওয়া নিয়ে নানারকম প্রশ্ন আমাদের মাথায় আসতে থাকে। এটি প্রোটিনের সহজ উৎস, তাই প্রায় সবারই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ডিম থাকে। আপনার নিশ্চয়ই কখনো না কখনো মনে হয়েছে যে প্রতিদিন দুটি করে ডিম খেলে কী হতে পারে? বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে দুটি ডিম খাওয়া উপকারী অভ্যাস হতে পারে, বিশেষ করে যখন প্লেটের বাকি খাবারগুলোও পরিমিতভাবে সাজানো থাকে।
একটি বড় ডিমে প্রায় ৭০ থেকে ৭২ ক্যালোরি এবং প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে, সঙ্গে থাকে কোলিন, বি ভিটামিন, লুটেইন এবং জিয়াজ্যান্থিনের মতো পুষ্টি উপাদান এবং পরিমিত পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট।
দুটি ডিম খেলে যা পাওয়া যায়
ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি কোলিনও থাকে, যা মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে, এছাড়াও এতে লুটেইন এবং জিয়াজ্যানথিনের মতো চোখের জন্য উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে। একারণেই ডিম কার্বোহাইড্রেট-বহুল সকালের নাস্তার চেয়ে বেশি তৃপ্তিদায়ক, যা দ্রুত হজম হয়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রোটিনই মূল কাজটি করে। হার্ভার্ড হেলথ উল্লেখ করেছে যে প্রোটিন-সমৃদ্ধ ডিম পেট ভরার অনুভূতি বাড়াতে এবং ক্ষুধার সংকেত কমাতে সাহায্য করে।
প্রথম সপ্তাহটি কেমন হতে পারে
দুটি ডিম সকালের খাবার ঝামেলামূক্ত করতে পারে। কারণ এটি পেস্ট্রি, সাদা টোস্টের চেয়ে ধীরে হজম হয়। এর ফলে সকাল ও দুপুরের মাঝামাঝি সময়ে খাবারের আকাঙ্ক্ষা কমে যায়। এতে সঠিক সময়ে ক্ষুধা অনুভব হয় এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়। ডিম খাওয়ার জন্য তাই সকালের নাস্তার সময়টা বেশি কার্যকরী হতে পারে।
দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সপ্তাহে যা হতে পারে
দ্বিতীয় এবং তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে উপকারিতাগুলো সাধারণত কিছুটা কম স্পষ্ট কিন্তু ধারাবাহিক হয়। যদি ডিম আপনার সকালের নাস্তার জায়গা নেয়, তাহলে স্থিতিশীল শক্তি, খাবার-পরবর্তী কম ক্লান্তি এবং সামগ্রিক ক্যালোরি গ্রহণের ওপর নিয়ন্ত্রণ অনুভব করতে পারবেন। যদি ডিম শাক-সবজি, ফল, শস্য এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত একটি বৃহত্তর খাদ্যতালিকার অংশ হয়, তবে তা বেশি কার্যকরী হবে।
এখানেই ডিমের কার্যকারিতা ফুটে ওঠে: এটি কোনো একক উপাদান হিসেবে নয়, বরং সুষম রুটিনের নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ডিমের কোলেস্টেরল ট্রান্স ফ্যাট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাটের মতো রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় না, এবং মেয়ো ও হার্ভার্ড উভয়ই জোর দিয়ে বলেছে যে ডিমের সঙ্গে আপনি কী খাচ্ছেন তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডিমের সঙ্গে কী খাবেন
শাক-সবজি, শস্যদানা এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে ডিম খাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু বেকন, সসেজ, মাখন, পনির এবং রিফাইন্ড ব্রেডের সঙ্গে খেলে সেখানে ডিম তার কার্যকারিতা অনেকটাই হারাতে পারে। পালং শাক ও টমেটোর সঙ্গে ডিম; ওটস বা শস্যদানার টোস্টের সঙ্গে ডিম; অ্যাভোকাডো ও বিনসের সঙ্গে ডিম; সবজির স্ক্র্যাম্বলের সঙ্গে ডিম; অথবা ভাজা মাংসের পরিবর্তে ফলের পাশে ডিম পরিবেশন করা বেশি স্বাস্থ্যকর হতে পারে।