শিরোনাম
◈ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসতেই মেনু থেকে উধাও গরুর মাংস, আতঙ্কে খামারি-রেস্তোরাঁ মালিকরা ◈ মিনহাজুল আ‌বে‌দিন নান্নু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবির পরিচালক  ◈ হাম-উপসর্গে দেশে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর মৃত্যু ◈ আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এডিবি ◈ কিচেন কেবিনেট’ সব সিদ্ধান্ত নিতো, ৩ বার পদত্যাগ করতে চেয়েছিলাম: সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন (ভিডিও) ◈ ‘ভারত যা চাইবে তাই পাবে’: মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ◈ কারখানা প্রস্তুত, নেই গ্যাস: ঋণের চাপে দিশেহারা শিল্প উদ্যোক্তারা, থমকে গেছে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ◈ পুঁজিবাজারে নতুন বড় কোম্পানি: বিআরবি ক্যাবলের আইপিওর প্রস্তুতি শুরু ◈ বাংলাদেশে ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ছয়টি মামলা কী অবস্থায় আছে?  ◈ কোরবানির পরবর্তী সাতদিন ঢাকার বাইরে থেকে চামড়া ঢাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে

প্রকাশিত : ২৫ মে, ২০২৬, ০৭:৩৪ বিকাল
আপডেট : ২৫ মে, ২০২৬, ০৮:০৬ রাত

প্রতিবেদক : আর রিয়াজ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ক্ষমতায় আসতেই মেনু থেকে উধাও গরুর মাংস, আতঙ্কে খামারি-রেস্তোরাঁ মালিকরা

ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রতিবেদন: গরুর মাংসের সরবরাহ সংকট এবং গরুর মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার আশঙ্কার কারণে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁগুলো তাদের মেনু থেকে স্থায়ীভাবে বিফ স্টেক, চপ এবং বিফ বিরিয়ানি সরিয়ে ফেলেছে।

পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য নির্বাচনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়লাভ করার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁগুলোর মেনু থেকে গরুর মাংসের খাবার উধাও হতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এই রাজ্যে চলতি মাসের শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করে বিজয় নিশ্চিত করার পর থেকেই বিজেপি দ্রুত একের পর এক নির্দেশনা কার্যকর করতে শুরু করেছে।

রাজ্য সরকার মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার আগে গরু, ষাঁড় ও মহিষ প্রকাশ্যে জবাই নিষিদ্ধ করে বহু দশক পুরোনো একটি আইন কার্যকর করেছে। একই সঙ্গে জবাইয়ের জন্য প্রতিটি পশুর ক্ষেত্রে সরকারি সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যেখানে নিশ্চিত করতে হবে যে পশুটি হয় ১৪ বছরের বেশি বয়সী, অথবা স্থায়ীভাবে শ্রমের অযোগ্য।

পশ্চিমবঙ্গ ছিল ভারতের অল্প কয়েকটি অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যের একটি, যেখানে ব্যবহারের জন্য গরু জবাইয়ের অনুমতি ছিল।

কলকাতায় বিফ স্টেকের জন্য বিখ্যাত অন্যতম রেস্তোরাঁ 'শেখস'-এর পক্ষ থেকে দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে জানানো হয়েছে যে তারা মেনু থেকে গরুর মাংস সরিয়ে ফেলেছে। রেস্তোরাঁটির পক্ষ থেকে বলা হয়, 'এখন কোনো সরবরাহ নেই এবং আগামী ছয়-সাত মাসেও থাকবে না। তাই আমরা স্থায়ীভাবে গরুর মাংসের খাবার পরিবেশন বন্ধ করেছি।'

'মোকাম্বো' রেস্তোরাঁর নীতিন কোঠারি বলেন, খাবারগুলো এখনও মেনুতে রয়েছে, তবে সরবরাহ সংকটের কারণে পরিবেশন করা হচ্ছে না। তিনি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, 'আমরা সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছি। কিন্তু যদি তা না হয়, তাহলে মেনু থেকে এগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে।'

'দ্য বার্গার শপ' ইনস্টাগ্রামে 'ভারাক্রান্ত হৃদয়ে' ঘোষণা দিয়েছে, 'পাঁচ বছর ধরে আমরা যেভাবে বার্গার পরিবেশন করেছি এবং আপনারা যেভাবে তা পছন্দ করেছেন, এখন আমাদের মেনুতে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।'

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, 'দ্য বার্গার শপে আর গরুর মাংস পাওয়া যাবে না।' তারা আরও যোগ করে, 'আমাদের বার্গারের কোনো ধর্ম নেই। কিন্তু রাজনীতির আছে।'

দশকের পুরোনো 'অলি পাব'-এর কর্মীরা জানিয়েছেন, সরবরাহ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেলে বিফ স্টেকও মেনু থেকে সরিয়ে ফেলা হবে।

গবাদিপশু জবাই নিষেধাজ্ঞা রাজ্যের প্রাণিসম্পদ বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে এবং হিন্দু ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে যেসব হাটে পশু বিক্রির জন্য আনা হতো, সেখানে ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার খামারি গোপাল দাস বলেন, 'নতুন সরকার এই রাজ্যে গবাদিপশুর খামার চালানো অসম্ভব করে তুলেছে। আমরা ঈদের আগে বিক্রির জন্য এসব গরু পালন করতাম। এটাই আমাদের জীবিকা। এখন আমরা কীভাবে বাঁচব?'

গোপাল দাসের খামারে সাত বছরের কম বয়সী প্রায় ১৪টি গরু রয়েছে, যাদের অধিকাংশই দুধ দেয় না। তিনি বলেন, 'প্রতিটি গরুর পেছনে প্রতিদিন আমাদের ২৫০ রুপি পর্যন্ত খরচ হয়। যদি আমাদের বাধ্য করা হয় ১৪ বছর পর্যন্ত এগুলো পালন করতে, তাহলে লোকসান গুনে গরুগুলো রাস্তায় ছেড়ে দিতে হবে।'

এই পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্য সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। আইনটির বিরুদ্ধে এবং এর বাস্তবায়নের প্রতিবাদে খামারিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।

ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্ম হিন্দুধর্মে গরুকে পবিত্র মনে করা হয় এবং অনেক হিন্দু গরুকে পূজা করেন। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বহু 'গোরক্ষক'-এর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্বেও জড়াতে দেখা গেছে, যদিও অনেক হিন্দুর সমর্থন তারা পেয়েছে ধর্ম রক্ষার দাবিতে।

২০১৫ সালে উত্তর প্রদেশে গরুর মাংস সংরক্ষণ ও খাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর মোহাম্মদ আখলাককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

তবে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পাশাপাশি কিছু হিন্দুও খাদ্যতালিকায় গরুর মাংস খেয়ে থাকেন। কারণ এটি থেকে তুলনামূলক কম খরচে প্রোটিন পাওয়া যায়।

জবাই নিষেধাজ্ঞার পর মুসলিম আলেমরা আইনগত ব্যবস্থা এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কায় মানুষকে ঈদুল আজহায় পশু কোরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এই উৎসবে মুসলমানরা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর আত্মত্যাগের পরীক্ষার স্মরণে ভেড়া বা গরু কোরবানি করেন এবং মাংসের একটি অংশ দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন।

নব-নির্বাচিত রাজ্য সরকার রাজ্যে কথিত অবৈধ বাড়িঘর এবং স্থাপনাগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া তীব্র করার জন্য সমালোচিত হয়েছে।

বিজেপির পরিবর্তন কার্যক্রম যেন রাজ্যের সৌন্দর্যবোধ দিয়েই শুরু হয়েছে। কলকাতায় চিত্রশিল্পীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচিত নীল-সাদা রঙ বদলে হলুদ-সাদা রঙ ব্যবহার শুরু করেছেন।

সরকার প্রায় ১৩ বছর পর রাজ্য সচিবালয়ের কার্যক্রম পার্শ্ববর্তী হাওড়ার 'নবান্ন' ভবন থেকে আবার 'রাইটার্স বিল্ডিং'-এ ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

বিজেপি জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নকশায় তৈরি শহরের স্টেডিয়ামের বাইরে থাকা বিতর্কিত ফুটবল-থিমের ভাস্কর্যও সরিয়ে ফেলা হবে। ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক সাংবাদিকদের বলেন, 'এমন কুৎসিত দেখতে ভাস্কর্য—শুধু দুটি পা আর তার ওপর একটি ফুটবল—এর কোনো মানে হয় না।' 

তিনি আরও বলেন, 'এটি নান্দনিকভাবেও আকর্ষণীয় নয়। তাই অর্থহীন এমন বিকৃত স্থাপনা আমরা রাখব না। এটি সরিয়ে ফেলা হবে।' 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়