গরুর দাম যে কোটি কোটি টাকা হতে পারে, তা হয়তো অনেকের ভাবনারও অতীত। তবে ব্রাজিলের একটি নিলামে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ‘নেলোর’ জাতের একটি গরু বিক্রি হয়েছে রেকর্ড ৪০ কোটি রুপিতে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, ‘ভিয়াতিনা-১৯’ নামের এই গরুটিই বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দামি গবাদিপশু।
মাত্র ৫৩ মাস বয়সি এই বিশেষ গরুর ওজন প্রায় ১,১০১ কেজি, যা নেলোর জাতের অন্যান্য সাধারণ গরুর গড় ওজনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ধবধবে সাদা চামড়া, ঝুলে থাকা শিথিল ত্বক এবং কাঁধের ওপর স্পষ্ট কুঁজের কারণে গরুটি দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
শুধু দামের দিক থেকেই নয়, টেক্সাসের ফোর্ট ওয়ার্থে অনুষ্ঠিত গবাদিপশুদের ‘মিস ইউনিভার্স’ খ্যাত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ অংশ নিয়ে এটি ‘মিস সাউথ আমেরিকা’ খেতাবও জয় করেছে। মূলত চমৎকার শারীরিক গঠন, নিখুঁত পেশিবহুল অবয়ব এবং বিরল বংশগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই বিচারকদের মন জয় করে নেয় ভিয়াতিনা-১৯।
প্রাণী চিকিৎসকদের মতে, এই গরুটি নিখুঁত শারীরিক বৈশিষ্ট্যের এক অনন্য উদাহরণ। খামারিরা একটি আদর্শ গরুর মধ্যে যেসব গুণাবলি খোঁজেন, তার সবই ভিয়াতিনা-১৯-এর মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য নেলোর জাতটি বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। এই অনন্য গুণের কারণে উন্নত জাতের গবাদিপশু প্রজনন কর্মসূচিতে ভিয়াতিনা-১৯-এর ভ্রূণের চাহিদা এখন বিশ্বব্যাপী তুঙ্গে।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ব্রাজিলের বর্তমান পশুপালনের এই গৌরবের পেছনে রয়েছে গভীর ভারতীয় সংযোগ। ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের মোট গবাদিপশুর প্রায় ৮০ শতাংশই মূলত ভারতীয় ‘জেবু’ উপজাতির অন্তর্গত, যাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পিঠের ওপর কুঁজ এবং গলার নিচে ঝুলন্ত চামড়া বা গলকম্বল। ভিয়াতিনা-১৯ যে ‘নেলোর’ জাতের অন্তর্ভুক্ত, সেটিকে মূলত ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম জেলার বিখ্যাত ‘অনগোল’ জাতের বংশধর বলা হয়।
ধারণা করা হয়, খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় দুই হাজার বছর আগে আর্যদের হাত ধরে এই শক্তিশালী জাতটির উৎপত্তি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ১৮০০ শতকের দিকে এটি প্রথম ব্রাজিলে নিয়ে যাওয়া হয়।
বর্তমানে ব্রাজিল বিশ্বের বৃহত্তম নেলোর জাতের প্রজননকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ব্রাজিলে প্রায় ২৩ কোটি গরু রয়েছে, যার একটি বিশাল অংশ এই নেলোর জাতের এবং এদের মূলত উন্নত মানের মাংস উৎপাদনের জন্য লালন-পালন করা হয়।
ব্রাজিল থেকে এখন আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, ভেনিজুয়েলা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশেও এই জাতের গরু রপ্তানি করা হচ্ছে। তবে সবকিছুর মাঝে ৪০ কোটি টাকার ভিয়াতিনা-১৯ এখন গবাদিপশু ও দুগ্ধ শিল্পের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। সূত্র: এনডিটিভি।