অনলাইনে আয়ের কথা ভাবলেই মাথায় আসে হাজারটা প্রশ্ন। কোথা থেকে শুরু করব? কী শিখব? এত এত অপশনের ভিড়ে মাথা ঘুরে যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু আসল ব্যাপারটা পানির মতো সহজ। আপনার কোনো ডিগ্রি বা লাখ টাকার ল্যাপটপ দরকার নেই—দরকার শুধু স্কিল, ৩০ দিন সময়, ইন্টারনেট সংযোগ এবং একটু সাহস। আজ এমন সাতটি স্কিলের ব্যাপারে আলোচনা করব, যেসব শিখতে আপনার এক মাসের বেশি লাগবে না। আর এসব শিখে মাসে ৩০০ থেকে ৯০০ ডলার আয় করা মোটেও অসম্ভব কিছু নয়। কোনো ভুয়া প্রতিশ্রুতি নয়, এসব ফ্রিল্যান্সাররা প্রতিদিন ব্যবহার করে আয় করছেন। চলুন, সরাসরি কাজের কথায় যাই।
১. ক্যানভা ডিজাইন
লিস্টের সবচেয়ে সহজ কাজ এটি। ইনস্টাগ্রামে সুন্দর পোস্ট দেখে নিশ্চয়ই ভাবেন, ‘ইশ্! আমিও যদি এমন বানাতে পারতাম!’ সুসংবাদ হলো, আপনিও পারবেন। ফটোশপ বা গ্রাফিকস ডিজাইনের ডিগ্রির দরকার নেই, ক্যানভা দিয়েই প্রফেশনালদের মতো ডিজাইন করুন।
কাজটি শুরু করার আগে শুধু সাধারণ কিছু বিষয় বুঝতে হবে—
যা বানাতে পারবেন
যেভাবে আয় করবেন
ছোট থেকে বড়—সব ব্যবসার জন্যই কনটেন্ট লাগে, কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে এসব বানানোর সময় বা লোকবল নেই। ১০টা স্যাম্পল ডিজাইন করে একটা পোর্টফোলিও বানান। ফাইভারে গিগ খুলুন অথবা যাঁরা ছোট ব্যবসা করেন, তাঁদের সরাসরি মেসেজ দিন।
শিখতে লাগবে: ১০-১৫ দিন
সম্ভাব্য আয়: মাসে ৩০০-৬০০ ডলার
২. কপিরাইটিং
কপিরাইটিং মানেই কঠিন ইংরেজি জানা নয়। সহজ কথায় মানুষকে কোনো অ্যাকশন নিতে বাধ্য করা বা পণ্য কেনানো।
যা লিখতে পারবেন
কেন কাজ পাবেন
ভালো শব্দ = মানুষের বিশ্বাস = বেশি বিক্রি। ব্যবসার মূল মন্ত্রই এটা। বিজ্ঞাপন দেখে সেসব নিজের মতো করে আবার লেখার অভ্যাস করুন। ছোট বাক্য ও আকর্ষণীয় হেডলাইন লেখা শিখতে হবে।
শিখতে লাগবে: ৩০ দিন
সম্ভাব্য আয়: মাসে ৩০০-৭০০ ডলার
৩. ভিডিও এডিটিং
এখন যুগটাই ছোট ভিডিওর। রিলসের এই সময়ে ভিডিও এডিটিং জানা মানে সোনার খনি হাতে পাওয়া। সিনেমার মতো এডিট করতে হবে না, শুধু ফাস্ট ও ক্লিন এডিট দরকার।
টুলস
যা এডিট করবেন
যেভাবে আয় করবেন
ছোট কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের খুঁজে বের করুন। তাঁদের একটা ভিডিও ফ্রিতে এডিট করে দিন স্যাম্পল হিসেবে। কাজ ভালো হলে তাদের সাপ্তাহিক এডিটর হিসেবে অফার দিন।
শিখতে লাগবে: ২০-৩০ দিন
সম্ভাব্য আয়: মাসে ৪০০-৭০০ ডলার
৪. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট
ছোট ব্যবসাগুলো সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে হাবুডুবু খায়। কী পোস্ট করবে, কখন করবে, তা ভাবার সময় তাদের নেই। এখানেই আপনার সুযোগ।
আপনার কাজ
যেভাবে আয় করবেন
কোনো বিজনেস পেজে মেসেজ দিন, ‘আপনার পেজটা দারুণ! আমি আপনার জন্য ৩টা পোস্ট ফ্রিতে করে দিতে চাই। দেখবেন?’ কাজ পছন্দ হলে তারা আপনাকে হায়ার করবে।
শিখতে লাগবে: ১৫-২০ দিন
সম্ভাব্য আয়: মাসে ৩০০-৬০০ ডলার
৫. নোশন টেমপ্লেট
বর্তমানে প্রোডাক্টিভিটির রাজা নোশন। মানুষ গোছানো টেমপ্লেট কিনতে পছন্দ করে।
যেভাবে আয় করবেন
একবার টেমপ্লেট বানিয়ে সারা জীবন তা বিক্রি করতে পারবেন। ক্লায়েন্টদের জন্য কাস্টম ড্যাশবোর্ডও বানিয়ে দিতে পারেন।
শিখতে লাগবে: ১০-১৫ দিন
সম্ভাব্য আয়: মাসে ৩০০-৭০০ ডলার
৬. বেসিক ওয়েব ডিজাইন (কোডিংসহ)
কোডিংইয়ের কথা শুনে ভয় পাবেন না। বড় ডেভেলপার হতে বলছি না, শুধু সাধারণ কোডিং জেনেও সুন্দর ওয়েবসাইট বানানো সম্ভব।
যা শিখবেন
যা বানাতে পারবেন
কেন শিখবেন
ক্লায়েন্টরা কাস্টম ওয়েবসাইট চায়, টেমপ্লেটে তাদের সব চাহিদা মেটে না। তাই এর দামও বেশি পাওয়া যায়। ইউটিউবে প্রচুর ফ্রি রিসোর্স আছে।
শিখতে লাগবে: ৩০ দিন
সম্ভাব্য আয়: মাসে ৫০০-৯০০ ডলার
৭ ধাপে শুরু করার রোডম্যাপ
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, যেকোনো একটি স্কিল বাছাই করা। একসঙ্গে একাধিক নয়, শুধু একটি।
শুরুতে কম রেটে কাজ করুন, অভিজ্ঞতা বাড়লে রেট বাড়াবেন। শুরুতে হয়তো ১০ ডলার, তারপর ২৫ ডলার, ৫০ ডলার, ১০০ ডলার…এভাবে বাড়াতে থাকবেন।
প্রথম ৩০০ ডলার আপনার ব্যাংক ব্যালান্স খুব একটা বদলাবে না, কিন্তু আপনার মানসিকতা বদলে দেবে। আপনি বিশ্বাস করতে শুরু করবেন—
বেশির ভাগ মানুষ সঠিক সময়ের অপেক্ষায় থাকে। যাঁরা সফল হন, তাঁরা শুরু করে দেন। পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়ে কাজ শুরু করতে চাইলে সেই কাজ আর হয় না। আজ থেকে ৩০ দিন পর আপনার হাতে একটা নতুন স্কিল থাকতে পারে, অথবা আপনি ঠিক সেখানেই পড়ে থাকতে পারেন, যেখানে আজ আছেন। সিদ্ধান্ত আপনার।
সূত্র: মিডিয়াম