শিরোনাম
◈ মুস্তাফিজের স‌ঙ্গে পূর্ব প‌রিচয় বার্মিংহাম কো‌চের, এ কার‌ণেই সু‌যোগ পে‌লেন হা‌ন্ড্রেড ব‌লের টুর্না‌মে‌ন্টে ◈ হরমুজ প্রণালী দখলে ট্রাম্পের ‘মিত্র জোট’ আহ্বান, সরাসরি প্রত্যাখ্যান ফ্রান্সের ◈ প্রচুর টাকা ঢেলেও প‌য়েন্ট টে‌বি‌লের তলানীতে লিভারপুল  ◈ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করলো আমিরাত সরকার ◈ ইরানের পাল্টা হামলায় প্রতিরক্ষা সংকটে ইসরায়েল ◈ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে অস্থির ডলারের বাজার, দুর্বল হচ্ছে টাকা ◈ মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ, ইরান যুদ্ধ থামাতে রাজি নয় ট্রাম্প ◈ বাংলাদেশে এসে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায়ে বড় অঙ্কের জরিমানামুক্ত হওয়ার সুখবর পেলো পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা ◈ আঙ্কারায় বাংলাদেশ–তুরস্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক, সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার ◈ হাদির হত্যাকারীদের পালাতে ‘সহায়তাকারী’ ফিলিপ সাংমাও পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত : ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:১৩ সকাল
আপডেট : ০১ মার্চ, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিথ্যা বলার অভ্যাস ছাড়তে চান? জেনে নিন ৫ উপায়

আমরা কেউই নিজেদের ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে ভাবতে পছন্দ করি না। কিন্তু বাস্তবে আমরা কমবেশি ছোট-বড় মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ফেলি। ছোটদের ক্ষেত্রে এটি সহজাত মনে হলেও বড়দের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। মিথ্যা বলা অনেকের ক্ষেত্রে একটি বদ-অভ্যাসে পরিণত হয়। কখনো অন্যকে আঘাত না করতে, কখনো নিজের স্বার্থ হাসিলে বা কখনো স্রেফ নিজেকে বড় করে দেখানোর জন্য মানুষ মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কিন্তু এই অভ্যাস দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্বাস ও সম্পর্কের ফাটল ধরায়। মানুষ তখনই মিথ্যা বলে, যখন সত্য বলার বিষয়টি তার স্বচ্ছন্দের সীমানা বা কমফোর্ট জোন অতিক্রম করে। তবে সদিচ্ছা থাকলে এই অভ্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব।

মিথ্যার কারণ বা ‘ট্রিগার’ খুঁজুন

মিথ্যা বলার আগে একটু থেমে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করুন। আপনি কোথায় আছেন? কার সঙ্গে আছেন? সেই মুহূর্তে আপনার অনুভূতি কেমন? আপনি কি নিজেকে ভালো দেখাতে বা অন্য কাউকে খারাপ লাগা থেকে বাঁচাতে মিথ্যা বলছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনাকে সেই পরিস্থিতি বা আবেগগুলো চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে, যা আপনাকে মিথ্যা বলতে বাধ্য করে। মিথ্যার ধরন শনাক্ত করুন। বসে ভাবুন, আপনি কোন ধরনের মিথ্যা বেশি বলেন। এটি কি তথ্য গোপন করা, অতিরঞ্জিত করে বলা নাকি সম্পূর্ণ বানোয়াট গল্প? মিথ্যার ধরন বুঝতে পারলে এর পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা সহজ হয়।

নিজের সীমানা নির্ধারণ করুন

অনেকে অন্যদের সোজাসুজি ‘না’ বলতে পারেন না বলে মিথ্যার আশ্রয় নেন। যেমন ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও কাউকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। নিজের প্রয়োজন বা সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে কথা বলা শিখুন। সত্যের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ উত্তর দিন, যা অন্যরা শুনতে চায়, তেমন উত্তর নয়। কারও ব্যক্তিগত বা অস্বস্তিকর প্রশ্নের উত্তরে মিথ্যা বলার প্রয়োজন নেই। আপনি চাইলে দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারেন, ‘আমি এই বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না’ বা ‘এটি আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়’। মিথ্যা না বলে স্রেফ তথ্য শেয়ার করতে অস্বীকৃতি জানানো আপনার অধিকার।

ভাবুন, সবচেয়ে খারাপ কী হতে পারে

অনেকে ভাবেন, সত্য বললে অন্য কেউ কষ্ট পাবে বা পরিস্থিতির অবনতি হবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্যের পরিণাম যতটা খারাপ ভাবা হয়, ততটা হয় না। সত্য বললে সাময়িকভাবে কেউ বিরক্ত হলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা সবার জন্য কল্যাণকর হয়। ছোট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করুন। কারণ, এক রাতেই মিথ্যা বলা পুরোপুরি বন্ধ করা অসম্ভব হতে পারে। তাই প্রতিদিন একটু একটু করে সত্য বলার প্রতিজ্ঞা করুন। কোনো দিন ভুল করে মিথ্যা বলে ফেললে হতাশ না হয়ে পরের দিন আবার চেষ্টা করুন। যেকোনো কথা বলার আগে নিজের গাট ফিলিংস বা অন্তর্দৃষ্টি যাচাই করুন। কথাটি কি নিজের ও অন্যের জন্য সম্মানজনক? এতে কি সবার ভালো হবে? এর ভবিষ্যৎ ফল কী হতে পারে? এই প্রশ্নগুলো আপনাকে সত্য বলতে অনুপ্রাণিত করবে।

বাস্তবতা মেনে নিন

অনেক সময় আমরা নিজের ভুল স্বীকার করতে বা যন্ত্রণাদায়ক বাস্তবতাকে মেনে নিতে পারি না বলে মিথ্যার আশ্রয় নিই। সত্যকে মেনে নেওয়ার অভ্যাসটি কষ্টকর হলেও এটি আপনাকে অনেক মূল্যবান শিক্ষা দেয় এবং আত্মিক শান্তি দেয়। মিথ্যাকে জায়েজ করার চেষ্টা ছাড়ুন। ছোটবেলা থেকে আমাদের অনেক সময় শেখানো হয়, কাউকে খুশি করতে ‘সাদা মিথ্যা’ বলা ভালো। কিন্তু মিথ্যা শেষ পর্যন্ত নিজের এবং অন্যের সঙ্গে বিশ্বাসের সম্পর্ক নষ্ট করে। তাই মিথ্যাকে জায়েজ করার পেছনে শক্তি ব্যয় না করে কীভাবে মার্জিতভাবে সত্য বলা যায়, সেদিকে নজর দিন।

বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন

যদি আপনার মিথ্যা বলাটা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। যদি মিথ্যা বলাটা আপনার শৈশবের কোনো কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে থেরাপি আপনাকে সেই মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে এবং সত্যের পথে ফিরতে সাহায্য করবে। মিথ্যা বলা সমস্যার সমাধান করে না, বরং একে দীর্ঘায়িত করে। সততা বজায় রাখা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে আজ থেকে সত্য বলার অভ্যাস শুরু করুন।

সূত্র: হেলথ লাইন 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়