ভাল কাজ দেয়ার প্রলোভনে ভারতে পাচারের শিকার সাত বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদেরকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের আইনী প্রক্রিয়া শেষে বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ছয় জন এবং মহিলা আইনজীবী সমিতি একজনকে গ্রহণ করেছে।
ফেরত আসা বাংলাদেশিরা হলেন-বরিশালের হিজলা উপজেলার আবদা গ্রামের আলতাব হোসেন মাঝির মেয়ে জেসমিন আক্তার, পটুয়াখালীর মাদানপুর এলাকার মাঝপাড়া গ্রামের শাহআলমের ছেলে আরমান হোসাইন, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর এলাকার রামগোবিন্দ হিসাবিয়া গ্রামের মৃত নুর আলীর মেয়ে রুপা ইসলাম (ওরফে নেহা)। এছাড়াও গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার ভাঙ্গারহাট এলাকার কোনেরবিটা গ্রামের চিন্ময় বড়াইয়ের ছেলে জিতেন্দ্র বড়াই (ওরফে যতির্ময় বড়াই), যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া গ্রামের নবিসউদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লা আলী, বরিশাল জেলার কোতয়ালি মডেল থানার দপ্তরখানা রোডের স্বরূপ ম্যানসনের বঙ্কিম চন্দ্র হালদারের ছেলে রাজু হালদার (ওরফে সৌরভ হালদার) এবং পটুয়াখালীর সদর থানার ইসলামাবাদ এলাকার পাচাকোরালিয়া গ্রামের ফারিকুল ইসলামের ছেলে আবু তাহের।
মানবাধিকার সংগঠনের কর্মকর্তা রেখা বিশ্বাস জানান, দালাল ও অনলাইনের মাধ্যমে প্রতারকদের প্রলোভনে পড়ে তারা বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন অন্য দেশে যাওয়ার আশায়। পরে ভারতের কলকাতায় ঘোরাফেরার সময় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দমদম জেলে পাঠানো হয় তাদের। দুই দেশের মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপে ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সাজাভোগের পর তাদের কলকাতার একটি শেল্টার হোমে রাখা হয়। পরবর্তীতে দেশে ফেরার অনুমতি পেয়ে তারা বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।