শিরোনাম
◈ মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ, ইরান যুদ্ধ থামাতে রাজি নয় ট্রাম্প ◈ বাংলাদেশে এসে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায়ে বড় অঙ্কের জরিমানামুক্ত হওয়ার সুখবর পেলো পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা ◈ আঙ্কারায় বাংলাদেশ–তুরস্ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক, সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার ◈ হাদির হত্যাকারীদের পালাতে ‘সহায়তাকারী’ ফিলিপ সাংমাও পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার ◈ পূর্বাচল প্লটের ৬ লাখ টাকার কাঠা এখন ৭৫ লাখ: নতুন দাম নির্ধারণ করলো রাজউক ◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিতে ফেরার পথ খুঁজছে কার্যক্রম নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা আওয়ামীলীগ ◈ উন্নত চিকিৎসায় মির্জা আব্বাসকে কাল  সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে, মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান রিপোর্ট ভালো এসেছে ◈ ঈদের আগে-পরে ১২ দিন ২৪ ঘণ্টা তেলের পাম্প খোলা থাকবে ◈ ছুটিতে আসা প্রবাসীদের এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি ◈ মা‌ঠে অ‌শোভন আচর‌ণের জন‌্য শাস্তি পেলেন পা‌কিস্তা‌নের সালমান আলি আঘা

প্রকাশিত : ১৪ মার্চ, ২০২৬, ০৯:৩০ রাত
আপডেট : ১৫ মার্চ, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিচারহীনতার ১০ বছর: মায়ের পেটে থাকা সন্তান চাইলেন বাবা হত্যার বিচার

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হেযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে চোখ উপড়ে, হাত-পায়ের রগ কেটে প্রকাশ্যে জবাই করে হত্যার ঘটনার এক দশক পেরিয়ে গেলেও বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। সেই ঘটনার সময় মায়ের পেটে থাকা হোসাম তাঁর বাবা রুবেল হত্যার দাবি করেছেন।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোকে রাজনৈতিক মামলা হিসেবে উল্লেখ করে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যারা। 

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টায় সোনাইমুড়ী উপজেলার শহীদি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে  হেযবুত তওহীদ। 

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ সোনাইমুড়ীর পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী মব সৃষ্টি করে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষকে উসকে দেয়। অপপ্রচার চালিয়ে নির্মাণাধীন একটি মসজিদকে গির্জা বলে গুজব রটানো হয়। এরপর সংগঠনের সদস্যদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে নির্মাণাধীন মসজিদটি ভাঙচুর করা হয়। কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে ১৮টি মোটরসাইকেল, গোলার ধান, গবাদি পশুসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে একে একে বাড়িগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে মোহাম্মদ সেলিম বলেন, মসজিদ নির্মাণের কাজে আসা সংগঠনের দুই সদস্য রুবেল ও সোলায়মান খোকনকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে জবাই করে হত্যা করা হয়। এ সময় তাদের চোখ তুলে নেওয়া হয় এবং হাত-পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। মৃত্যুর পর লাশে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। ঘটনার দুই বছর পর বিগত সরকারের আমলে একটি মামলা দায়ের করা হলেও মামলার অধিকাংশ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি কাউকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

মোহাম্মদ সেলিম বলেন, আসামিরা তখন থেকে এখনো ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচারের আশায় আদালতের বারান্দায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। যার মধ্যে এ ঘটনার জি আর-৬১৭/১৬, জি আর-৮১২/১৬, জি আর-৬৮১/১৬ ও জি আর-৮৬৬/১৬ নম্বর মামলাগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনাটি প্রকাশ্যে ঘটেছে। কারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে, কারা অর্থ জুগিয়েছে এবং কারা মিছিল করে এসে হামলা চালিয়েছে-তার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। ছবি, ভিডিও ও অডিওসহ নাম-ঠিকানা আমরা আদালতে জমা দিয়েছি। এসব আসামিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত মামলার প্রকৃত কার্যক্রমই শুরু হয়নি। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করছি। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পরেও এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। মসজিদ, গার্মেন্টস কারখানা, স্কুল, হাসপাতাল ও খামারসহ অন্তত ৪২টি প্রকল্পে বর্তমানে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

পুনরায় হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখনো একটি উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী বিভিন্ন সময় এলাকায় বেআইনি সমাবেশ করে হামলার হুমকি দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানি ছড়াচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে হেযবুত তওহীদের নারী সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় আমির মাহবুর আলম, চাষীর হাট উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মাঈন উদ্দিন’সহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের পাশাপাশি নিহত রুবেল ও সোলায়মান খোকনের পরিবারের সদস্য এবং ওই ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়