প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা কিংবা কাজের ফাঁকে যখন আজানের সুর ভেসে আসে, তখন মুমিন হৃদয় দোলা দিয়ে ওঠে। বিশ্ব জাহানের রব আল্লাহর মহান দরবারে সেজদা দিতে রওয়ানা হওয়া—এটি কেবল শরীরের একটি সাধারণ গতিময়তা বা হাঁটাহাটি নয়; বরং এটি হলো রবের প্রেমে এক পরম আত্মিক সফর। আমরা প্রতিদিন কত দূরত্বই না অতিক্রম করি, কিন্তু মসজিদের পথে ফেলার প্রতিটি পদক্ষেপের যে অপরিসীম মর্যাদা ও সওয়াব রয়েছে, তা আমাদের জীবনকে কানায় কানায় অনুগ্রহ ও বারাকাহ দিয়ে ভরিয়ে তোলে।
মসজিদের পথের বরকত ও প্রতিটি কদমের মর্যাদা
সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া আল্লাহ তাআলার কাছে অত্যন্ত প্রিয় একটি আমল। প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে বান্দার জীবনের অপরাধ ক্ষমা করা হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং একে আল্লাহর দরবারে ‘সদাকাহ’ হিসেবে গণনা করা হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী থেকে আমরা মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়ার অপূর্ব ফজিলত জানতে পারি। হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন—
... وَكُلُّ خُطْوَةٍ يَمْشِيهَا إِلَى الصَّلاةِ صَدَقَةٌ
‘সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ একটি সদাকাহ ...।’ (বুখারি ২৯৮৯)
অন্য একটি বর্ণনায় বিশ্বনবী (সা.) এই প্রতিটি পদক্ষেপের আত্মিক প্রভাব চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
فَإِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الْمَسْجِدِ لاَ يَخْرُجُهُ إِلاَّ الصَّلاَةُ، لَمْ يَخْطُ خُطْوَةً إِلاَّ رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ، وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةٌ
‘যখন কেউ সুন্দরভাবে অজু করে এবং কেবল নামাজের উদ্দেশ্যেই মসজিদের দিকে বের হয়, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি করে গুনাহ মুছে ফেলা হয়।’ (বুখারি ৬৪৭)
কুরআনের আহ্বান ও আত্মিক সফলতা
নামাজের দিকে ধাবিত হওয়া এবং আল্লাহর ঘরে যাওয়া মূলত ইমানদারদের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা কুরআনে নামাজ ও আল্লাহর স্মরণের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে নির্দেশ দিয়েছেন—
یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا نُوْدِیَ لِلصَّلٰوةِ مِنْ یَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا اِلٰى ذِكْرِ اللّٰهِ
‘হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ত্বরান্বিত হও।’ (সুরা আল-জুমা: আয়াত ৯)
রাসুলুল্লাহ (সা.) দূর থেকে হেঁটে আসা মুসল্লিদের সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন যে, মসজিদের দূরত্ব যত বেশি হবে, পদক্ষেপের সংখ্যা তত বাড়বে এবং সওয়াবের পাল্লাও তত ভারী হবে।
জীবনধারায় পরিবর্তন ও শিক্ষা
মসজিদের দিকে হেঁটে যাওয়া প্রতিটি কদমই বান্দার জান্নাতের পথ সুগম করে। দুনিয়ার ব্যস্ততাকে পেছনে ফেলে যখন মুমিন তার রবের সেজদার পানে হেঁটে চলে, তখন আসমানের ফেরেশতারাও সেই পথে রহমতের ডানা বিছিয়ে দেয়। আসুন, নামাজের জন্য নিয়মিত মসজিদে যাওয়ার অভ্যাস গড়ি এবং প্রতিটি পদক্ষেপকে আখিরাতের পাথেয় ও অগণিত সদাকাহর উসিলা বানিয়ে নিই।
সূত্র: যুগান্তর