রোমান সাম্রাজ্যের বিশাল ধ্বংসাবশেষ, বিস্ময়কর মরুভূমির দৃশ্য আর নানা সভ্যতার স্থাপত্যে গড়ে ওঠা ঐতিহাসিক শহর আলজেরিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণীয়। কিন্তু জটিল ভিসা ব্যবস্থা দেশটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটনের মূল স্রোত থেকে অনেকটাই দূরে রেখেছিল। এবার সেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। আফ্রিকার পর্যটনের ‘ঘুমন্ত সুন্দরী’ হিসাবে পরিচিত আলজেরিয়া ধীরে ধীরে জেগে উঠছে।
আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১ কোটি ২০ লাখ পর্যটক টানার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংগঠিত ট্যুরে যাওয়া পর্যটকদের জন্য চালু হয়েছে অন-অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা। ২০২৫ সালের আগস্টে যাত্রা শুরু করেছে এয়ার আলজেরির নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডমেস্টিক এয়ারলাইনস।
দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা রক্ষার পাশাপাশি প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার কারুশিল্পীর প্রশিক্ষণ ও সহায়তার জন্যও সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ সালে আলজেরিয়া ভ্রমণ আরও সহজ করে তুলছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ট্যুর অপারেটরের নতুন ভ্রমণ প্যাকেজ।
শুরু হোক আলজিয়ার্স থেকে
বেশির ভাগ পর্যটকের যাত্রা শুরু হয় সমুদ্রতীরের রাজধানী আলজিয়ার্স থেকে। প্রাচীন ফিনিশীয় বসতি হিসেবে যার যাত্রা শুরু, পরবর্তী বিভিন্ন শাসকের প্রভাব শহরটির স্থাপত্য ও সংস্কৃতিতে স্পষ্ট।
এরপর ঘুরে দেখা যায় কনস্টান্টিন শহর। তিন হাজার বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসের নানা নিদর্শন ধরে রাখা এই শহর ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত।
রোমান ধ্বংসাবশেষ, নেই পর্যটকের ভিড়
কনস্টান্টিনের কাছেই রয়েছে তিমগাদের বিস্তৃত ও ভালোভাবে সংরক্ষিত রোমান ধ্বংসাবশেষ। একই রকম ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে জেমিলারও। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়, এত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হলেও এখানে পর্যটকের ভিড় তুলনামূলকভাবে কম।
সাহারার পথে
শহর ও প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ পেরিয়ে আলজেরিয়ার সাহারা মরুভূমি যেন ভ্রমণের আরেক অধ্যায় খুলে দেয়। শত শত মাইলজুড়ে বিস্তৃত ঢেউখেলানো বালিয়াড়ি আর মরুভূমির বিচিত্র ভূদৃশ্য এ অঞ্চলের অন্যতম বড় আকর্ষণ।
সাহারা অভিযানের অন্যতম ঘাঁটি দজানেত। মরূদ্যানঘেরা এই শহর থেকে মরুভূমির গভীরে যাত্রা করা যায়।
প্রাচীন রোমান সভ্যতার নিদর্শন, ঐতিহাসিক শহর, বৈচিত্র্যময় স্থাপত্য আর বিশাল সাহারা—সব মিলিয়ে আলজেরিয়া এখন আফ্রিকায় তুলনামূলক কম পরিচিত কিন্তু সম্ভাবনাময় এক ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে সামনে আসছে।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন