নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আউটডোরে রোগীর স্বজনের গলা থেকে দুটি সোনার চেইন চুরির অভিযোগে সিনারা বেগম (৫০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে চুরি যাওয়া চেইন দুটি পাওয়া না গেলেও এক্সরে পরীক্ষায় তার পেটের ভেতরে সোনার চেইন দুটির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নোয়াখালী সদর উপজেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসকের কাছে দেখানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। আটক সিনারা বেগম সিলেট জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন বিবি ফাতেমা নামে এক নারী। আউটডোরে চিকিৎসকের সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকার সময় কয়েকজন নারী তাকে ঘিরে ধরে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে কৌশলে তার গলা থেকে দুটি সোনার চেইন খুলে নেওয়া হয়।
ঘটনার পর চক্রের কয়েকজন সদস্য দ্রুত পালিয়ে গেলেও সন্দেহ হওয়ায় সিনারা বেগমকে রোগীর স্বজনরা আটক করেন। পরে তার শরীর তল্লাশি করা হলেও চুরি যাওয়া চেইন দুটি পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল ক্যাম্পের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে আটক করে। পরে তাকে সুধারাম মডেল থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি সোনার চেইন দুটি গিলে ফেলার কথা স্বীকার করেন।
তিনি আরও বলেন, পরে এক্সরে পরীক্ষা করা হলে ওই নারীর পেটের ভেতরে চেইন দুটির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে তার পেট থেকে চেইন দুটি বের করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুধারাম মডেল থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) ইদ্রিসুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত নারী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।