আল্লাহ তাআলা মানুষকে জান্নাতের সুসংবাদ যেমন দিয়েছেন, তেমনি জাহান্নামের কঠিন শাস্তির ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন। একজন মুমিনের জন্য জাহান্নামের শাস্তির বর্ণনা ভয় প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নয়; বরং তাকে গুনাহ থেকে বিরত রাখা, তওবার দিকে আহ্বান করা এবং আল্লাহর আনুগত্যে দৃঢ় করা। বিস্ময়কর বিষয় হলো, যে শাস্তিকে জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তি বলা হয়েছে, সেটিও মানুষের কল্পনার অতীত ভয়াবহ। এই হাদিস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জাহান্নাম থেকে মুক্তিই প্রকৃত সফলতা।
কুরআনের সতর্কবার্তা
আল্লাহ তাআলা বলেন—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারকে সেই আগুন থেকে রক্ষা কর, যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর।’ (সুরা আত-তাহরীম: আয়াত ৬)
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন—
فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ
‘যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সেই-ই প্রকৃত সফলকাম।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১৮৫)
জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তি
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
إِنَّ أَهْوَنَ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا رَجُلٌ تُوضَعُ فِي أَخْمَصِ قَدَمَيْهِ جَمْرَتَانِ يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ، كَمَا يَغْلِي الْمِرْجَلُ وَالْقُمْقُمُ، مَا يَرَى أَنَّ أَحَدًا أَشَدُّ مِنْهُ عَذَابًا، وَإِنَّهُ لَأَهْوَنُهُمْ عَذَابًا
‘জাহান্নামবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি হবে সেই ব্যক্তি, যার পায়ের তলায় দুটি আগুনের অঙ্গার রাখা হবে। এর তাপে তার মস্তিষ্ক এমনভাবে ফুটতে থাকবে, যেমন হাঁড়ি ফুটতে থাকে। সে মনে করবে, তার চেয়ে কঠিন শাস্তি আর কারো নেই; অথচ সে-ই হবে জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি।’ (মুসলিম ২১৩)
এই হাদিস আমাদের কী শিক্ষা দেয়?
জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
اللَّهُمَّ أَجِرْنِي مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আঝিরনি মিনান নার।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’
রাসুলুল্লাহ (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন, এই দোয়া বেশি বেশি পড়তে এবং আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইতে। (আবু দাউদ ৫০৭৯)
জাহান্নামের সবচেয়ে হালকা শাস্তির এই বর্ণনাই প্রমাণ করে যে, আখিরাতের শাস্তি কোনো সাধারণ বিষয় নয়। তাই একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, নিয়মিত তওবা করা এবং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জাহান্নামের আগুন থেকে হেফাজত করুন, জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং ইমানের ওপর অবিচল রেখে মৃত্যু দান করুন। আমিন।