ইসলাম মানবজীবনকে পবিত্র, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ রাখার জন্য এমন কিছু নীতিমালা দিয়েছে, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ফিতনা (পরীক্ষা ও প্রলোভন) থেকে রক্ষা করে। নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, দৃষ্টির হেফাজত, লজ্জাশীলতা ও পর্দার বিধানও সেই শিক্ষারই অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন এবং আত্মসংযম ও তাকওয়ার জীবন গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুরুষদের জন্য একটি বড় ফিতনা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সতর্কবাণী
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَا تَرَكْتُ بَعْدِي فِتْنَةً أَضَرَّ عَلَى الرِّجَالِ مِنَ النِّسَاءِ
‘আমি আমার পরে পুরুষদের জন্য নারীদের চেয়ে অধিক ক্ষতিকর (পরীক্ষাস্বরূপ) কোনো ফিতনা রেখে যাচ্ছি না।’ (বুখারি ৫০৯৬, মুসলিম ২৭৪১)
এ হাদিসে নারীদের অবমূল্যায়ন করা হয়নি; বরং পুরুষদের জন্য অবৈধ আকর্ষণ ও কামপ্রবৃত্তির পরীক্ষার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একইভাবে ইসলাম নারীদেরও পুরুষদের ব্যাপারে সতর্কতা ও শালীনতার নির্দেশ দিয়েছে।
দৃষ্টি সংযম ও পর্দার নির্দেশ
আল্লাহ তাআলা প্রথমে মুমিন পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছেন—
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ
‘মুমিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ৩০)
এরপর মুমিন নারীদের উদ্দেশে আল্লাহ বলেন—
وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ...
‘আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে, নিজেদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং নিজেদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে...।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ৩১)
এই দুই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়, দৃষ্টি সংযম ও শালীনতা শুধু নারীদের নয়, পুরুষদের জন্যও সমানভাবে ফরজ নির্দেশনা।
পর্দা ও শালীনতার গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন—
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُل لِّأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِن جَلَابِيبِهِنَّ
‘হে নবী! আপনার স্ত্রীগণ, কন্যাগণ এবং মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের সহজে চেনা যাবে এবং তারা উত্যক্ত হবে না।’ (সুরা আল-আহযাব: আয়াত ৫৯)
ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়কেই দায়িত্বশীল হতে নির্দেশ দিয়েছে। পুরুষের জন্য দৃষ্টি সংযম যেমন ফরজ, তেমনি নারীর জন্য পর্দা ও শালীনতা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে উভয়েরই তাকওয়া, আত্মসংযম এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলার মাধ্যমে নিজেদের চরিত্র ও সমাজকে পবিত্র রাখার চেষ্টা করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দৃষ্টি, অন্তর ও চরিত্রের পবিত্রতা দান করুন এবং সব ধরনের ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।