ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে সাবেক সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ফরিদা ইয়াসমিন ও তাঁর ছেলে ফিরোজ মাহমুদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। পূর্ববিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে মো. বকুল সরদারের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. আব্দুস সামাদ। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, হামলায় ফিরোজ মাহমুদের মাথা ও বাঁ হাত এবং ফরিদা ইয়াসমিনের বাঁ হাতের কনুই ও কব্জিতে গুরুতর জখম হয়। এ সময় ফরিদা ইয়াসমিনের গলায় থাকা প্রায় ১০ আনা ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী পালিয়ে যান।
আহত ফিরোজ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তিনি অটোরিকশা থামিয়ে ধারালো হাসুয়া দিয়ে আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। আমি বাধা দিতে গেলে আমার হাত ও মাথায় কোপ লাগে মাথায় ছয় থেকে আটটি সেলাই দিতে হয়েছে।’
চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, হামলার পর স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাঁর মায়ের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনার শিমলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচার করা হলেও এখনো তাঁর জ্ঞান ফেরেনি। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘মিথ্যা অজুহাতে আমাকে ও আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।’
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কাবেরী সাহা বলেন, আহত দুজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ক্ষতস্থানে সেলাই করা হয়েছে। এক্স-রে ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আঘাতের প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।
ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক। তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশা জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।