শিরোনাম
◈ বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারে কঠোর বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ◈ নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ পাঁচ মন্ত্রী ◈ মাসে কত টাকা আয়ে কত কর? নিজেই হিসাব করুন নতুন নিয়মে ◈ এইচএসসি শুরুতেই অনুপস্থিতির হার উদ্বেগজনক, প্রথম দিনেই বহিষ্কার ৭ ◈ এলপি গ্যাসের দাম কমল ◈ শিক্ষাখাতে বড় নিয়োগের ইঙ্গিত, ১ লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগ হবে ◈ তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতায় প্রস্তুত চীন, সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের: চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ◈ দু'মুঠো ভাতের জন্য যেখানে ভোরে মানুষের হাটে মানুষ বিক্রি! ◈ ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পথে সরকার, ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য চাওয়া হয়েছে ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফর শুধু কূটনীতি নয়, ভারতের জন্যও সতর্কবার্তা: ফরেন পলিসি

প্রকাশিত : ০২ জুলাই, ২০২৬, ০৫:২৯ বিকাল
আপডেট : ০২ জুলাই, ২০২৬, ০৬:১১ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মাসে কত টাকা আয়ে কত কর? নিজেই হিসাব করুন নতুন নিয়মে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করেছে সরকার। একই সঙ্গে আগের ৫ শতাংশ করহার তুলে দিয়ে পুরো আয়কর স্ল্যাব নতুন করে সাজানো হয়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে একদল করদাতার করের পরিমাণ একেবারেই বদলাবে না। আবার নির্দিষ্ট সীমার বেশি আয় হলেই আগের তুলনায় বেশি কর দিতে হবে।

জেনে রাখা ভালো, আপনার আয় করমুক্তের সীমা অতিক্রম করলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

এবার মাসে কত আয় হলে কত কর দিতে হবে—এই হিসাবটা বুঝে নেওয়া যাক।

নতুন আয়কর স্ল্যাবে কী আছে?

নতুন কাঠামোতে সাধারণ করদাতাদের (পুরুষ) ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা আগের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। নারী ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে এটি ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। 

এছাড়া প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের জন্য এই সীমা ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সাধারণ করদাতাদের প্রথম ৪ লাখের পর ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ, এর পরের ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, পরের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ২৫ শতাংশ এবং এরপর থেকে ৩০ শতাংশ করে আয়কর দিতে হবে।

গত অর্থবছর (২০২৫-২৬) পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এরপর ১ লাখ টাকায় ৫ শতাংশ, পরের ৪ লাখে ১০ শতাংশ, পরের ৫ লাখে ১৫ শতাংশ, পরের ৫ লাখে ২০ শতাংশ, পরের ২০ লাখে ২৫ শতাংশ এবং বাকি অংশে ৩০ শতাংশ কর দিতে হতো।

অর্থাৎ সরকার একদিকে করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে ৫ শতাংশের করস্ল্যাব পুরোপুরি তুলে দিয়েছে।

বার্ষিক ৬ লাখ ও ৭ লাখ টাকা আয়ের ক্ষেত্রে আগে এবং এখনকার গাণিতিক করের পরিমাণে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের নিয়মে বার্ষিক ৭ লাখ টাকা আয়ে মোট কর আসত ৩০ হাজার টাকা, নতুন নিয়মেও পরিমাণটা একই থাকবে। একইভাবে ৬ লাখ টাকার ক্ষেত্রেও কর ২০ হাজার টাকাই থাকছে।

এর কারণ, করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়লেও ৫ শতাংশের পুরো একটি স্ল্যাব তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে এই দুটি পরিবর্তন পরস্পরকে সমন্বয় করেছে।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, ৪ লাখ টাকা বা তার কাছাকাছি আয়ের ক্ষেত্রে করের পরিমাণ কমেছে। আগে করমুক্ত সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থাকায় ৪ লাখ টাকা আয়ের ওপর গাণিতিক কর কম আসলেও ন্যূনতম করের নিয়মের কারণে ৫ হাজার টাকা কর দিতে হতো। নতুন নিয়মে করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা হওয়ায় এখন এই আয়ে কোনো করই দিতে হবে না।

এখানে বিনিয়োগ ছাড়া করযোগ্য আয়ের ওপর করের হিসাব করা হয়েছে। কারণ কর রেয়াতের জন্য বিনিয়োগ যুক্ত হলে এই হিসাবটি আলাদা হবে।

মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকার বেশি হলে

কারও মাসিক আয় যদি ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকার বেশি হয়, তাহলে তার বার্ষিক আয় হবে ৪ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তিকে কোনো কর দিতে হবে না। 

মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা হলে 

আপনার যদি মাসে ৫০ হাজার টাকা আয় হয়, তাহলে বছরে আয় হবে ৬ লাখ টাকা। এই আয়ের ক্ষেত্রে আগেও কর ছিল ২০ হাজার টাকা। এখনও ২০ হাজার টাকাই থাকবে। অর্থাৎ কোনো পরিবর্তন নেই।

মাসিক আয় প্রায় ৫৮ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ৫৮ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় করলে বছরে মোট আয় দাঁড়ায় ৭ লাখ টাকা। এই আয়ে আগের মতোই ৩০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এখানেও কোনো পরিবর্তন হয়নি।

মাসিক আয় ৬২ হাজার ৫০০ টাকা হলে

মাসে ৬২ হাজার ৫০০ টাকা আয় করলে বছরে আয় হয় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই আয়ের ওপর আগে কর ছিল ৩৫ হাজার টাকা। এখন দিতে হবে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ নতুন হারে ২ হাজার ৫০০ টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় ৮৩ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ৮৩ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় হলে বছরে আয় দাঁড়ায় ১০ লাখ টাকা। আগে কর ছিল ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা। এখন হবে ৭৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৭ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে।

মাসিক আয় ১ লাখ টাকা হলে

মাসে ১ লাখ টাকা আয় হলে বছরে আয় হয় ১২ লাখ টাকা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী এই আয়ের ওপর কর আগের তুলনায় আরও কিছুটা বাড়বে। আগে ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা দিতে হতো, এখন দিতে হবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিতে হবে, যা ১২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত।

মাসিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হলে

আপনার মাসিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা হলে বার্ষিক আয় হয় ১৫ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে আগে কর দিতে হতো ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এখন দিতে হবে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ২০ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হলে

মাসে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় হলে বছরে আয় দাঁড়ায় ১৮ লাখ টাকা। আগের কর কাঠামোয় এই আয়ের জন্য ২ লাখ ১০ হাজার টাকা কর দিতে হতো। নতুন কর কাঠামোয় কর হবে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ একই আয়ে ৩০ হাজার টাকা বেশি কর দিতে হবে।

মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হলে

আপনার মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা হলে বছরে আয় ২০ লাখ ছাড়ায়। এক্ষেত্রে আগে কর ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা। এখন দিতে হবে ২ লাখ ৯১ হাজার টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৫০০ টাকা কর দিতে হবে। উৎস: ডেইলি স্টার।

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়