শিরোনাম
◈ সংসদে ‘আই হ্যাভ এ প্লান’ এর ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী ◈ ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ‘১৪ দফা’ চুক্তি ফাঁস, সামনে আসছে যুদ্ধবিরতির রূপরেখা ◈ ‘আমরা খালেদা জিয়ার সৈনিক, দেশ ছেড়ে কোথাও যাব না’ ◈ সীমান্ত হত্যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ দেশে হাম সন্দেহে মৃত্যু আরও ৪ জনের, নতুন করে আক্রান্ত ৯৬৬ ◈ শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন, বাজেট নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব প্রধানমন্ত্রীর ◈ ভূমি অফিসে অনিয়ম ঠেকাতে আসছে ডিজিটাল মনিটরিং ◈ বাবাকে ‘মুক্তিযুদ্ধের শহীদ’ বলা জামায়াত এমপির জন্ম ১৯৮১ সালে ◈ ইরান কেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিকে বিজয় হিসেবে দেখছে ◈ এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশে তাপপ্রবাহ, খরা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি!

প্রকাশিত : ১৭ জুন, ২০২৬, ০৬:৩১ বিকাল
আপডেট : ১৭ জুন, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিপদ কি গুনাহের ফল, নাকি আল্লাহর রহমত?

মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সমষ্টি। কখনো রোগ, কখনো আর্থিক সংকট, কখনো প্রিয়জন হারানোর বেদনা কিংবা অন্য কোনো বিপদ আমাদের জীবনে আসে। এমন সময় অনেকেই প্রশ্ন করেন—‘আল্লাহ কেন আমাকে এই কষ্ট দিলেন?’ অথচ ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি বিপদের পেছনেই রয়েছে গভীর হিকমাহ ও কল্যাণ। অনেক সময় বিপদ হয় গুনাহের পরিণতি, আবার অনেক সময় তা হয় বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি ও গুনাহ মোচনের মাধ্যম।

কেন বিপদ আসে?

প্রখ্যাত ইসলামি মনীষী ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন—

‘কোনো বিপদই আসে না গুনাহ ছাড়া, আর কোনো বিপদই দূর হয় না তওবা ছাড়া। আল্লাহ তার বান্দাদের প্রতি রহমতস্বরূপ বিভিন্ন মুসিবত, বিপদ ও পরীক্ষা দেন; যাতে এর মাধ্যমে তাদের গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়। এটি বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামতগুলোর একটি, যদিও তার নফস একে অপছন্দ করে।’

ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়, বান্দার কৃতকর্মের প্রভাব তার জীবনে পড়ে। গুনাহ মানুষের অন্তরকে কলুষিত করে এবং অনেক সময় বিপদ-আপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে মহান আল্লাহ তার অসীম দয়ায় সব গুনাহের শাস্তি দুনিয়াতেই দেন না; বরং অনেক কিছু ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَمَا أَصَابَكُم مِّن مُّصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَن كَثِيرٍ

‘তোমাদের উপর যে বিপদ-আপদ আসে, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল; আর তিনি অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা আশ-শূরা: আয়াত ৩০)

এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আত্মসমালোচনা ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই বিপদ থেকে উত্তরণের অন্যতম পথ।

বিপদে মুমিনের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمٍّ وَلَا حُزْنٍ وَلَا أَذًى وَلَا غَمٍّ حَتَّى الشَّوْكَةِ يُشَاكُهَا إِلَّا كَفَّرَ اللَّهُ بِهَا مِنْ خَطَايَاهُ

‘মুসলিমের উপর যে ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কষ্ট বা পেরেশানি আসে, এমনকি কাঁটার খোঁচাও লাগে— এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেন।’ (বুখারি ৫৬৪১, মুসলিম ২৫৭৩)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, মুমিনের জীবনে আসা কষ্ট ও বিপদ কেবল দুর্ভোগ নয়; বরং তা গুনাহ মোচনের এক মহান মাধ্যম।

আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তাকে পরীক্ষা করেন

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন—

إِنَّ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلَاءِ، وَإِنَّ اللَّهَ إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلَاهُمْ

‘বড় প্রতিদান বড় পরীক্ষার সঙ্গেই আসে। আর আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন, তখন তিনি তাদের পরীক্ষা করেন।’ (তিরমিজি ২৩৯৬)

অতএব, সব বিপদই যে আল্লাহর অসন্তুষ্টির নিদর্শন, তা নয়। অনেক সময় তা বান্দার ইমান, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি নির্ভরশীলতা যাচাইয়ের জন্য আসে।

বিপদের সময় করণীয়

  • আন্তরিকভাবে তওবা ও ইস্তিগফার করা।
  • ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা।
  • বেশি বেশি দোয়া ও ইবাদতে মনোযোগী হওয়া।
  • নিজের ভুল-ত্রুটি পর্যালোচনা করে সংশোধনের চেষ্টা করা।
  • আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে আশাবাদী থাকা।

বিপদ-আপদ মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন মুমিনের জন্য বিপদ কেবল কষ্টের নাম নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, গুনাহ মোচন এবং আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ। তাই বিপদে হতাশ না হয়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, তওবা করা এবং ধৈর্যের সঙ্গে তার সাহায্যের অপেক্ষা করাই প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। মনে রাখতে হবে, যে বিপদ আমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনে, সেটিই হতে পারে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় রহমত।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়