অসুস্থ হলে সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করা আরও বেশি জরুরি। কারণ প্রকৃত আরোগ্য একমাত্র তার কাছ থেকেই আসে। মানুষ যখন অসুস্থ হয়ে নিজের অসহায়ত্ব বুঝে আল্লাহর কাছে হাত তোলে, তখন আল্লাহ তা শুনেন। কেউ নিজের জন্য দোয়া করলে কিংবা অসুস্থ কারও জন্য দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা সুস্থতা দান করেন।
হজরত আনাস বিন মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এই দোয়া পড়ে অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝাড়ফুঁক করতেন—
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ مُذْهِبَ الْبَاسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لاَ شَافِيَ إِلاَّ أَنْتَ شِفَاءً لاَ يُغَادِرُ سَقَمًا
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা রাব্বান নাসি মুজহিবাল বাসি, ইশফি আনতাশ-শাফি, লা শাফিয়া ইল্লা আংতা শিফাআন লা ইউগাদিরু সাকামা।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি মানুষের রব, রোগ নিরাময়কারী, আরোগ্য দান কর, তুমি আরোগ্য দানকারী। তুমি ব্যতীত আর কেউ আরোগ্য দানকারী নেই। এমন আরোগ্য দাও, যা কোন রোগ অবশিষ্ট রাখে না।’ (বুখারি ৫৭৪২)
এই দোয়ায় মানুষের অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়। একই সঙ্গে আল্লাহর সর্বশক্তিমান হওয়ার ঘোষণা আসে। বান্দা স্বীকার করে নেয়, সুস্থতা কেবল তার কাছ থেকেই আসে।
অসুস্থতা কষ্টের হলেও তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ পরীক্ষা। এই পরীক্ষার ভেতরেই লুকিয়ে আছে রহমত। আছে গুনাহ মোচনের সুযোগ। আছে আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথ। অসুস্থ হলে হতাশ না হয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে। আর আল্লাহর কাছে বারবার দোয়া করতে হবে। কারণ তিনিই সুস্থতা দানকারী। তিনিই আরোগ্য দানকারী। তার দেওয়া আরোগ্য এমন যে, আর কোনো রোগ অবশিষ্ট থাকে না।
সূত্র: যুগান্তর