শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার,কুমিল্লা: কুমিল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে স্বামীসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পশ্চিমপাড় এলাকায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম।
নিহত গৃহবধূর নাম ফারজানা আক্তার লিমা (২২)। তিনি কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট ২ নম্বর সেকশনের শাহী জামে মসজিদ এলাকার মৃত রহিম মিয়ার মেয়ে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী।
অভিযুক্ত স্বামীর নাম শিপন মিয়া। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নেয়ামতকান্দি গ্রামের মৃত সুজন মিয়ার ছেলে। শিপন সপরিবারে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগর পশ্চিমপাড় এলাকায় বসবাস করতেন এবং পেশায় পিঠা বিক্রেতা ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই রায়হান জানান, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শিপন তাকে ফোন করে দ্রুত ধর্মসাগর পশ্চিমপাড় এলাকায় আসতে বলেন। ফোনে কথা বলার সময় চিৎকার ও চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। পরে রায়হানসহ পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লিমাকে ঘরের মেঝেতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনার পরপরই শিপন ও তার বড় ভাই রিপন পালিয়ে যান। পরে লিমাকে উদ্ধার করে পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে রায়হান জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে লিমা ভালোবেসে শিপনকে বিয়ে করেন। শিপন গরমকালে ডাব এবং শীতকালে পিঠা বিক্রি করতেন, এতে লিমাও তাকে সহযোগিতা করতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তারা ধর্মসাগর পাড় এলাকায় পিঠা বিক্রি করছিলেন। এ সময় পাশের বাড়ির এক নারীর কাছ থেকে একটি নারকেল কুড়ানি আনেন লিমা। পরে কুড়ানি ফেরত দিতে গিয়ে বাসায় না পেয়ে শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিপন বাসায় এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং এরপরই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
রায়হানের অভিযোগ, গত পাঁচ বছর ধরে শিপন তার বোনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। তবে নিজের পছন্দে বিয়ে করার কারণে লিমা এসব বিষয় পরিবারকে জানাতেন না। তার দাবি, শিপন ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে লিমাকে হত্যা করেছেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফ ইবনে আলম জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের বড় ভাই রায়হান বাদী হয়ে স্বামী শিপনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শিপনের বোন রবি আক্তার ও তার বড় ভাই রিপনের স্ত্রী সুমি আক্তারকে ধর্মসাগর পশ্চিমপাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।