শিরোনাম

প্রকাশিত : ০১ জুলাই, ২০২২, ০৬:১৪ বিকাল
আপডেট : ০২ জুলাই, ২০২২, ০১:৩৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

করোনা টিকা নিলেই স্বাস্থ্যসহ মৃত্যুঝুঁকি থাকবেনা: ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

শাহীন খন্দকার: গত কয়েক সপ্তাহ আগেও বাংলাদেশের অবস্থান বেশ ভালো ছিলো বললেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, করোনা সংক্রান্তের হার  আমাদের দেশে এক শতাংশের নিচে ছিলো। আমাদের সংক্রমনের সংখ্যাও কম ছিলো এবং অনেকদিন মৃত্যু শুন্যদিনও গেছে।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে করোনা খুবই দ্রুতগতিতে ক্রমশই বেড়ে যাচ্ছে।  বর্তমানে করোনাভাইরাস যেটা হচ্ছে তা ওমিক্রনের একটি সাবভ্যারিয়ান্ট এটাকে বি ৪ আর বি ৫ বলে। এই সাব ভ্যারিয়েন্টটি   দ্রুত সংক্রমিত করে এবং দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত একজন ব্যক্তি থেকে প্রায় ১০ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন।

বি ৪ ও বি ৫ এই ভ্যারিয়েন্টটি পৃথিবীর অনেক দেশের ন্যায় আমাদের দেশে পাওয়া গেছে। সেই জন্য ছড়াচ্ছে বেশী,  মানুষ নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছে, আরেকটি বিষয় হলো এই যে অমিক্রনের বি ৪ আর বি ৫ এটা যে প্রচলিত টিকাকে বাইপাস করছে।

বর্তমানে কোভিড-১৯ এই  টিকাকে ওভারকাম করেই আক্রান্ত করছে বলেই সংক্রমিত হার বেড়ে যাচ্ছে। ডা. আব্দল্লাহ বলেন, দ্বিতীয়তো বাজারে যে সব করোনার টিকা পাওয়া যাচ্ছে তা কিন্ত  দীর্ঘ সময় স্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও দিচ্ছেনা, ৬-৯ মাস সুরক্ষা দিয়ে থাকে। ফলে যারা আগে নিয়েছেন তাদের দেহে  টিকার গুণাগুন কমে আসতাছে। তারজন্য টিকা যে অ্যান্টিবডি তৈরি করে সুরক্ষা দেয় এবং সুরক্ষা কমে যাওয়াতেই সংক্রমিত হচ্ছে।

আমাদের পাশ্ববতী দেশ ভারতে  বর্তমানে ব্যাপক হারে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে,,গত ৩-৪দিন আগেও সেখানে ৪৫ শতাংশ সংক্রমনের হার ছিলো ভারত-বাংলাদেশ খুবই নিকটবর্তী দেশ হওয়াতে প্রতিদিনই মানুষ আসা যাওয়া করছে। বর্ডারগুলো দিয়ে প্রতিদিন বৈধ-অবৈধভাবে  মানুষ আসা যাওয়া করছে। বৈধভাবে যারা আসা যাওয়া করছেন  তাদের চেক করে ধরা যায়। কিন্ত অবৈধ পথে কতোজন আসছে তাতো চিহ্নিত করা যাচ্ছে না!

তিনি বলেন সীমান্ত পথেই  যে, তা কিন্ত নয়, স্থল-জলপথে বিমান পথেও মানুষ আসা যাওয়া করছে। ভারত আমাদের পাশ্ববতী দেশ, সেখানে বাড়লে আমাদের দেশে বাড়তে তো সময় লাগে না। সেজন্যই বেড়ে যাচ্ছে করোনা রোগী।

অধ্যাপক ডা. আব্দল্লাহ বলেন, সবচেয়ে বড় কথা দেশের মানুষ কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানছেনা। করোনা ভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ মোকাবিলা করতে হলে  স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ মাস্ক পরার কোনো বিকল্প নেই, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত এই চিকিৎসক বলেছেন, করোনার সংক্রমণের হার বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

করোনার চতুর্থ ঢেউ মোকাবিলায় লকডাউনের মতো পদক্ষেপের প্রয়োজন পড়বে না। তবে বেপরোয়াভাবে চলাচল বা স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে এবং মাস্ক পড়তেই হবে।

সবাইকে হাত ধোয়ার অভ্যাস চর্চা ও শারীরিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাসহ যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

 তিনি বলেন, মসজিদ, মন্দির, গীর্জায় হাট-বাজার বাসে, ট্রেনে, স্টেশনে স্কুল কলেজে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, মাস্ক পড়ছে না। আরো বলেন, এই ছোয়াচে রোগটি থেকে বাচার দুটি পথ খোলা।

এক টিকা নিতে হবে এবং দুই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কারণ বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারনেই আবার দ্রুত ছড়াচ্ছে। এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা সংক্রমিত বেশী হচ্ছে শহর কেন্দ্রিক। রাজধানীসহ বড়বড় শহর ও বিভাগে বেশী করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে ঢাকায় বেশী সংক্রমিত হওয়ার কারণ এখানে মানুষ বেশী, স্থায়ি মানুষ-ই তো কোটি ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন মানুষ বাহিরে আসছে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলছে না বলেই সংক্রমিতের হার রাজধানীতে বেশী। 
তিনি বলেন, তবে এখন পর্যন্ত আমাদের গ্রামের অবস্থা ভালো আছে বলা যায়। আমাদের সারা দেশের  অবস্থা ভালো ছিলো, কারণ অনেকে টিকা নিয়েছে, এদের মধ্যে অনেকে দ্বিতীয় প্রথম ডোজ নিলেও এখনো তৃতীয় ডোজ নেয়নি। আবার অনেকের ভেতর উদাসিনতা কাজ করছে টিকা না নেওয়াসহ স্বাস্থ্যবিধি না মানার। এই যে জনগণের খামখেয়ালীর কারনেও করোনা বেড়ে যাচ্ছে। তাই যারা টিকা নেননি তাদেরসহ এবং যারা প্রথম টিকা  নিয়েছেন ও দ্বিতীয় টিকা নেননি  তাদেরসহ বুস্টার টিকা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। 
 করোনার নতুন ধরন  মোকাবিলা করার জন্য দ্রুত করোনা টিকা গ্রহণের আহ্বান জানান অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, ৫-১২ বছর বয়সী শিশুদের করোনা ভাইরাসের টিকার আওতায় নিয়ে আসার কথা চলতি জুলাই মাসে সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অভিমত অনুযায়ী ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়