শিরোনাম
◈ সংঘাতের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ◈ দেশজুড়ে সহিংসতার ঘটনায় অভিযান, গ্রেপ্তার ২৭৪৭ ◈ আজ বিদেশি কূটনীতিকরা ধ্বংসযজ্ঞ পরিদর্শনে যাবেন ◈ চলমান সংকটে রাজশাহীতে কৃষিখাতে দিনে ২০ কোটি টাকার ক্ষতি ◈ কারফিউ শিথিল সময়ে চলবে দূরপাল্লার বাস ◈ প্রাণহানি ও ধ্বংসাত্মক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব ◈ ড. ইউনূস রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করেছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ বাংলাদেশের সহিংসতা বন্ধে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন ড. ইউনূস ◈ নরসিংদী কারাগার থেকে পালানো ১৩৬ কয়েদির আত্মসমর্পণ ◈ কতজন শিক্ষার্থী মারা গেছেন, জানতে সময় লাগবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১০:২৯ দুপুর
আপডেট : ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১১:৫৮ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারত-বাংলাদেশের মৈত্রীই সবচেয়ে সলিড: ড. অয়নজিৎ

প্রফেসর ড. অয়নজিৎ সেন

ভূঁইয়া আশিক রহমান : [১] আমাদের অর্থনীতি ও আমাদেরসময় ডটকম : আপনার দেশ ভারতে সংসদ নির্বাচন শুরু হয়েছে। কেমন হলো প্রথম পর্বের নির্বাচন?

প্রফেসর ড. অয়নজিৎ সেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক, কৌশলবিদ, ভারত : নির্বাচনের প্রথম ফেইজ অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। ভোটার টার্নআউট বেশ ভালো ছিলো। বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণই ছিলো নির্বাচন। 

[২] প্রথব পর্ব শেষে কাকে এগিয়ে রাখবেন অথবা এই নির্বাচনে কে কার আগে?
ড. অয়নজিৎ সেন : যা দেখা যাচ্ছে, ভারতের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আবারও বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। ভারতীয় জনতা পার্টিই সরকার গঠন করবে। বিজিপি গতবার ৩০৩টি আসন পেয়েছিলো, এবার সেই সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। বেশ কয়েকটা জরিপেও ওঠে এসেছে, বিজিপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। পাবলিক রিয়াঅ্যাকশনও তেমনটিই দেখা যাচ্ছে। 

[৩] বিজিপিকে কেন মানুষ আবারও ক্ষমতায় আনবে, বিজিপির পারফরমেন্স কোথায়, কেন ভালো? কংগ্রেস কি তাহলে মানুষের হয়ে কথা বলতে পারেনি? 

ড. অয়নজিৎ সেন : বিজিপি সরকার বিগত ১০ বছরে ভারতে যা করেছে, ভারত স্বাধীনতার পর অনেক কাজ ছিলো, যা বিগত সরকারগুলো করেনি। সেই জায়গা বিগত ১০ বছরে অনেকটা কাজ হয়েছে। ফলে ভারতীয়রা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছে। ভারতের আজকের শক্তিশালী অবস্থানের জন্য কৃতিত্ব দেবো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। পারিবারিক রাজনীতি একটা সময় পর্যন্ত ভারতের মানুষ নিয়েছে। সেখানেই কংগ্রেসের পরিবর্তে বিজিপি ক্ষমতায় এসেছে। বিজিপি ক্ষমতায় এসে বসে থাকেনি, কিংবা প্রতিশ্রতি দিয়েই বসে থাকেনি, কাজও করে গেছে সমানতালে। ভারত আজকে গ্লোবাল সিনারিওতে যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেই জায়গা অন্য কোনো সরকারের শাসনামলে  হয়নি। যে কারণে সরকার গঠনে কংগ্রেসের তুলনায় এগিয়ে আছে বিজিপি।

 

[৪] সিএ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ। ভারত বাংলাদেশকে কি  আশ্বস্ত করতে পারে?

ড. অয়নজিৎ সেন : সিএ’র পার্ট অলরেডি ক্লিয়ার হয়ে গেছে। সিএ নিয়ে কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বা ভয়েরও কোনো কারণ নেই। এটা পরিষ্কার করে সরকার সামনে রেখে দিয়েছে, এখন শুধু প্রসেস বাকি। এখানে একটা ভয় তৈরি করা হয়েছে। অথবা একটা গুজব তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। যারাই এটা করছে, তারা গুজব ছড়ানোর মাস্টার!

[৫] বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ঐতিহাসিক। প্রতিবেশী দুই দেশের এখনকার সম্পর্কে ভারসাম্য আছে বলে মনে করেন কি?

ড. অয়নজিৎ সেন : বাংলাদেশ-ভারত দুই ভাইয়ের একটা স্টোরি। যে গল্পের শুরু মূলত একাত্তরে, যা এখনো চলছে। ভবিষ্যতেও চলবে। বিগত ১০ বছরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যেকার সম্পর্ক অনেক বেশি শক্তিশালী হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আছে, সেখানে ভারত-বাংলাদেশের মৈত্রীই সবচেয়ে সলিড। 

[৬] সলিড মৈত্রী সম্পর্কেও কিছু অভিযোগ সবসময় ওঠে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে। ভারত কেন বাংলাদেশের ন্যায্য অধিকার দিতে কার্পণ্য করে? তিস্তা চুক্তি কেন এতোদিনেও হচ্ছে না, সীমান্তে কেন মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। ভারত কেন সমস্যার সমধান করছে না?

ড. অয়নজিৎ সেন : বিজিপি সরকার আবারও ক্ষমতায় এলে, সম্ভবত বিজিপিই ক্ষমতায় আসছে। মাস তিনেক অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। আগামী দুই বছরের মধ্যে তিস্তা চুক্তি, সীমান্তহত্যাসহ ছোট-বড় যতো ইস্যু আছে, বিশেষ করে তিস্তা চুক্তি ও সীমান্তহত্যার সমাধান দুই তিন বছরের মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অনেকেই বলবেন, ১০ বছরে যে সমস্যার সমাধান হলো না, সেখানে আগামী ২ বছরে কীভাবে সমাধান হবে? কারণ এ নিয়ে আবারও দুই দেশের সরকারের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকারও চায় দ্রুত তিস্তা চুক্তি ও সীমান্তহত্যা বন্ধ হোক। দ্রুত সমাধান চান তারা। ভারত সরকারও তা চায়। এখন অপেক্ষা ভারতে নতুন সরকারের। তারপরই তিস্তা চুক্তি ও সীমান্তহত্যা বন্ধের পদেক্ষপগুলো নেওয়া শুরু হয়ে যাবে। 

[৭] বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা আছে। একটা ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের মধ্যে কি গড়ে তোলা সম্ভব?

ড. অয়নজিৎ সেন : দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদান-প্রদানের জায়গাটা বড় করার আছে। এ নিয়ে দুই পক্ষই কাজ করছে, এটা আমি মোটামুটি নিশ্চিত, প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক প্রত্যাশা করে দুই দেশের মানুষ। আপনি দেখবেন, ধীরে ধীরে হলেও অদূর ভবিষ্যতে ভারসাম্যহীনতা, অসমতা ইত্যাদি শব্দগুলো থাকবে না। দুই দেশ ভাই ভাই হিসেবে থাকবে। একে অপরের পাশে আরও বেশি করে থাকবে। আরও বেশি বেশি সহযোগিতা হবে। 

[৮] বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয় পণ্য বর্জনের ক্যাম্পেইনকে কীভাবে নিচ্ছে ভারত?
ড. অয়নজিৎ সেন : বাংলাদেশের ভেতরে ভারতীয় বর্জনের ক্যাম্পেইন হচ্ছে বটে, কিন্তু আসল চাবিকাঠি নাড়ানো হচ্ছে অন্য দেশ থেকে। বেশ দূরের দুটি রাষ্ট্র থেকে। কোন দুটি রাষ্ট্র? নাম বলবো না। ওই দুটি রাষ্ট্র করাচ্ছে বলবো না, তবে ওখানকার কিছু মানুষ তা করাচ্ছে। এখানকার কিছু মানুষকে দিয়ে পণ্য বর্জনের ক্যাম্পেইন করানো হচ্ছে। সব দিক দিয়ে তাদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

[৯]  শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আছে টানা ১৫ বছরের বেশি সময়। এই সময়ে বাংলাদেশের পরিবর্তনটা কী রকম দেখেন?

ড. অয়নজিৎ সেন : ২০০৫-২০০৬ সালে প্রথম ঢাকায় এসেছিলাম। এরপরও ঢাকায় অনেকবার এসেছি। এটুকু বলবো, ঢাকা শহর পাল্টে গেছে। অনেকটা চেঞ্জ হয়ে গেছে। বাংলাদেশজুড়ে উন্নয়ন হয়েছে ব্যাপক। এই উন্নয়নটা আসলে শেখ হাসিনা সরকারই করেছে। বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়ে গেছে। অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে আপনাদের বর্তমান সরকার। অর্থনৈতিকভাবে তো বিস্ময়কর উন্নতি। এখন স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন শেখ হাসিনাজি। ২০৪০ সালে উন্নত বাংলাদেশের লক্ষ্য। ভারতবাসী বিশ্বাস করে, বাংলাদেশ সঠিক পথেই আছে। উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সব ধরনের সহযোগিতা ভারতের জনগণ করবে। ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে ছিলো। থাকবে। 

[১০] বাংলাদেশের কিছু রাজনৈতিক দল অভিযোগ করে, ভারত আওয়ামী লীগকে একতরফা সমর্থন দিয়ে আসছে। যে কারণে বারবার নামমাত্র ভোটে অথবা বিনা ভোটে সরকার গঠন করতে পারছে আওয়ামী লীগ। এই অভিযোগ নিয়ে কী বলবেন।

ড. অয়নজিৎ সেন : দেখুন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক। এখন বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, তার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে ভারত, এটা তো স্বাভাবিক। প্রতিবেশী দেশে একটা স্থিতিশীল সরকার থাকুক, এটা ভারত চায়। কিন্তু এখানে কে ক্ষমতায় আসবে, কে আসবে না তা তো এ দেশের জনগণের হাতে। তারা যাদের ভালো মনে করবে, তাদের ক্ষমতায় বসাবে। এখানে ভারতের কোনো ইন্টারেস্ট নেই। ভারত সবসময় চায় বাংলাদেশ উন্নতি হোক। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার থাকুক, ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেবে। এখানে সমর্থনের ব্যাপার নয়, আস্থার। দুই দেশের মধ্যে একটা আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক সবসময় থাকা উচিত। তাহলে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকতে সহায়ক হবে।

[১১] নির্বাচন বা রাজনীতি নিয়ে উপমহাদেশের মানুষ সবসময় ইন্টারেস্ট দেখায়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, রাজনীতির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে মানুষ। এ ধরনের একটা মত আছে। এই মতটা কি ঠিক? ভারতের মানুষের মধ্যে নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখেন?

ড. অয়নজিৎ সেন : নির্বাচন নিয়ে ভারতীয়দের আগ্রহ ডেফেনেটলি আছে। রাজনীতি বা নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ না থাকলে ভোটিং পার্সেন্টিজ এতোটা হতো না। কারণ মানুষ জানে, একটা ভোটও নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে মেটার করে। ওভারঅল উমহাদেশে রাজনীতির প্রতি মানুষ এখনো আগ্রহ আছে। রাজনীতি নিয়ে তারা মাতামাতি করতে পছন্দ করে। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা কিংবা বাংলাদেশের তাকান দেখবেন এর সত্যতা মিলবে। সম্পাদনা: রাশিদ 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়