শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০২৩, ১২:০১ দুপুর
আপডেট : ১০ জুন, ২০২৩, ০২:৪৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পরিবর্তন না করলে মালয়েশিয়া টিকে থাকতে পারবে না: আনোয়ার 

আল-জাজিরার সাংবদিক চান তাউ চৌ এর সঙ্গে কথা বলছেন আনোয়ার ইব্রাহীম 

সাজ্জাদুল ইসলাম: প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহীম তার দেশের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা পুণর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, মালয়েশিয়াকে অবশ্যই পরিবর্তন হতে হবে, অন্যথায় দেশটি টিকে থাকতে পারবে না। আল-জাজিরার ১০১ ইস্ট প্রোগ্রামের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। সূত্র: আল জাজিরা

আনোয়ার বলেন, শাসনের প্রসঙ্গে আমি মনে করি, ফলপ্রসূ পরিবর্তন আনার উদ্যোগ গ্রহণ ও তা কার্যকর করা আমার দায়িত্ব, কারণ দেশ ইতোমধ্যে কিছুটা ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি বিশ্বাস করি, পরিবর্তন আনার জন্য সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ় সংকল্প না থাকলে মালয়েশিয়া টিকে থাকতে পারবে না। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমি ইতিবাচক কর্ম নীতিমালার মাধ্যমে মালয়েশিয়াকে জাতি ভিত্তিক থেকে প্রয়োজন ভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

২০২২ সালের নভেম্বরের নির্বাচনের পর আনোয়ার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন। এর মধ্যদিয়ে মালয়েশিয়ার রাজনীতির শীর্ষপদে আসার তার ঝঞ্ঝাাবিক্ষুব্ধ যাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটে। 

১৯৯০ এর দশকে ত্যেজোদীপ্ত তরুণ নেতা থেকে দ্রুত তিনি মালয়েশিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পর দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তিতে পরিণত হন। এশিয়ার অর্থনৈতিক সংকটের সময় তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে সমকামিতা ও দূর্নীতির অভিযোগ আনা হয়। তাকে এ অভিযোগে দু’মেয়াদে ২০ বছরের বেশি জেল দেওয়া হয়। যদিও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করা হয়।

মালয়েশিয়া নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষের দেশ। তবে ১৯৭০ এর ইতিবাচক কর্ম নীতিমালায় কেবল সংখ্যাগুরু মালয় মুসলিম ও আদিবাসীরা সুবিধা পাচ্ছে। এ নীতিতে এসব জাতিগত গ্রুপকে চাকরি, শিক্ষা ও গৃহায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়। ১৯৬৯ সালে মালয় ও চীনা জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দাঙ্গার পর সামাজিক ব্যবস্থা হিসেবে এ নীতি গ্রহণ করা হয়।

এ নীতি অস্থায়ীভাবে গ্রহণ করা হয় বলে মনে করা হলেও তা আজও বলবৎ রয়েছে। এতে চীনা ও ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের অনেকে অধিকতর সুবিধার আশায় অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।

মালয়েশিয়ায় আয়ের ব্যাপক বৈষম্য বিরাজ করছে। তাই এ নীতি যাদের প্রয়োজনকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল, তারা তার সুফল পাচ্ছে কি-না, আজ সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আনোয়ারের মতে,  জাতিভিত্তিক নীতির চেয়ে প্রয়োজনভিত্তিক নীতি হলে তাতে মালয়ীরা অধিক উপকৃত হতে পারবেন। কারণ জাতিভিত্তিক নীতি থেকে কেবল অভিজাত শ্রেণী ও তাদের সহযোগীরাই লাভবান হয়।

তবে আনোয়ার এ ধরণের সংস্কার করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। মালয়েশিয়ার প্রথম বহুজাতিক একটি দল থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশটিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ঐতিহ্যগত ভাবে মালয় বা অন্য সম্প্রদায় ভিত্তিক দলের দ্বারা দেশটি শাসিত হয়ে আসছে। মালয়ীরা দেশটি জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি এবং তারা মুসলিম।

হারাপান (আশার জোট) জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনে জয়ী হতে পারেনি। ছোট ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট করার মাধ্যমেই আনোয়ার ক্ষমতায় আসতে পেরেছেন। এর মধ্যে সাবেক ক্ষমতাসীন জোটের বারিসান ন্যাশনালও রয়েছে। দলটির নেতৃত্বে আছে কেবল মালয়ীদের দল ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (উমনো)।

মালয়েশিয়ার জাতিভিত্তিক কর্মনীতির স্থপতি হচ্ছে বারিসান ন্যাশনাল। কয়েক দশকের শাসনামলে দলটি এর লালন করেছে। আর উমনো নিজেকে মালয়ীদের অধিকারের রক্ষক বলে গণ্য করে।

আনোয়ার অবশ্য ক্ষমতাসীন জোটের লক্ষ্যের ভিন্নতার বিষয়কে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কয়েকটি প্রধান নীতিমালার ভিত্তিতে জোট গঠিত হয়েছে। তাহল, সুশাসন, দূর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং সাধারণ নারী-পুরুষের জন্য কল্যাণকর অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ।

মালয়েশিয়ার উন্নয়নের পথে জাতিগত ও ধর্মীয় সমস্যাগুলো একটা বড় অন্তরায় হয়ে আছে। আনোয়ারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পেরিকাতান ন্যাশনাল। এটি মালয় মুসলিমদের দলগুলো নিয়ে গঠিত একটি জোট। ইতোমধ্যে আনোয়ারের এসব পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। অমুসলিমদের আল্লাহ শব্দ ব্যবহার করা সম্পর্কিত আপীল প্রত্যাহার করার সরকারের সিদ্ধান্তকে তারা ‘বেপরোয়া’ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। সম্পাদনা: মাজহারুল ইসলাম

এসআই/এসআই/এইচএ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়